বাঘায় প্রতিবন্ধীকে মারধর, ইউপি সদস্যের ছেলেসহ ৩ জন আটক

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল দেওয়ার সময় লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে একজন বাক প্রতিবন্ধীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যের ছেলেসহ তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) সকালে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিন জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলো চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের আট নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জহুরুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম, নুরুল ইসলামের ছেলে সোনাম হোসেন এবং আবদুস সামাদের ছেলে ইউনুস আলী।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণ চলছিল। এ সময় কিছু উপকারভোগী লাইনে না দাঁড়িয়ে চাল নেওয়ার চেষ্টা করছিল। ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম তাদের লাইনে দাঁড়িয়ে চাল সংগ্রহ করতে বলেন। এ নিয়ে উপকারভোগীদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। পরে চাল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে জহুরুল মেম্বারের ছেলে লোকজন নিয়ে কালিদাশখালী গ্রামের নুরজ্জামানের মোড় এলাকায় হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বাক প্রতিবন্ধী আরিফুল ইসলাম (২৮), খিদির শিকদারের ছেলে শাকিল শিকদার (২২) ও চকরাজাপুরের নান্নুর হোসেনের ছেলে আকরামুল হককে (১৮) পিটিয়ে আহত করে। পরে তাদের উদ্ধার করে বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, চাল বিতরণের সময় লাইন আঁকাবাঁকা দেখে উপকারভোগীদের লাইন সোজা করতে বলা হয়। কিন্তু তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এতে আমার ছেলেসহ তিনজনকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ডিএম বাবলু দেওয়ান বলেন, চাল বিতরণের সময় সকালে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে উপকারভোগী ও পরিষদের মেম্বারের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এ নিয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে পেটানোর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এই ঘটনায় তিন জনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। আহতরা এখন সুস্থ আছেন।