রাবিতে এবারই বিদেশি শিক্ষার্থী আগের চেয়ে বেশি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষে সাতজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। শনিবার থেকে প্রথমবর্ষের ক্লাস শুরু হচ্ছে। রাবির ৬২ বছরের ইতিহাসে যেকোনও শিক্ষাবর্ষে এত বেশি সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির নজির এই প্রথম।
এবার সাত বিদেশি শিক্ষার্থীর সবাই এসেছেন নেপাল থেকে। তারা হলেন, ফার্মেসি বিভাগে জেভেন কুমার ও রিতিষ গিরি, অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি অ্যান্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স বিভাগে অমিত শাহ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রায়েজ শেখ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পুষ্প ঠাকুর, ফলিত পদার্থ ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে একরামুল হক মিয়ান এবং ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সুমিত কুমার জাদভ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার আসলাম হোসেন জানান, প্রতিবছর ৩৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থীর রাবিতে পড়ার সুযোগ থাকলেও গত ৬২ বছরে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৫ জন। বিভিন্ন সময় এই বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশিদের পছন্দের তালিকায় থাকলেও নানা জটিলতার কারণে অনেকের আসা হতো না। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নিয়ে এসব জটিলতা নিরসন করায় বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
রাবিতে বর্তমানে নেপালের আরও তিন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এরা হলেন- রনজিৎ মল্লিক, বসন্ত রাজ গিরি ও জিলানী অনসারী। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মীর আব্দুল কাউয়ূম আন্তর্জাতিক ডরমিটরিতে থাকছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দুজন বিদেশি গবেষকও রয়েছেন। এরা হলেন, ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের সহকারী গবেষক জাপানি নাগরিক কেনজি সুজি এবং নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের গবেষক ভারতীয় নাগরিক শতাব্দি আচার্য। এর আগে নেপালের বিনোদ কুমার দাস ফার্মেসি বিভাগ থেকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ম্যাথিউ এরিংটন ফোকলোর বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

রাবিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত নেপালের শিক্ষার্থী জিলানী অনসারী বলেন, এখানে সুন্দর আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। বিভাগের বন্ধু ও শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নিয়মিত খোঁজ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশ ভালো থাকলে আগামীতে আরও বিদেশি শিক্ষার্থী আসবেন বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ভালো পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। এছাড়া এর আগে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে যেসব কূটনৈতিক জটিলতা ছিল তা নিরসন করা হয়েছে। তাদের আবাসনের জন্য শহীদ মীর আব্দুল কাউয়ূম আন্তর্জাতিক ডরমেটরি সংস্কার করা হচ্ছে। এতে করে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকরা এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই ৭টি বিভাগে ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০টি অনুষদের অধীনে মোট ৫৬টি বিভাগে অন্তত ৩২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য আবাসিক হল রয়েছে মোট ১৭টি। এছাড়া দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের থাকার জন্য একটি আন্তর্জাতিক ডরমেটরি রয়েছে।

/এফএস /এএইচ /