নাটোরে চা দোকানিকে মারধরের অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রোকনুজ্জামানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৬ আগস্ট) রাতে তাকে গ্রেফতার করে শনিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রোকনুজ্জামানসহ কয়েকজন মিলে একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পরিচালনা করছিলেন। ওই সংস্থা থেকে ঋণ দেওয়া হয়। প্রায় তিন মাস আগে সেখান থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের করোটা এলাকার চা দোকানি আব্দুস সাত্তার। ইতোমধ্যে তিনি ১৪০ টাকা হিসাবে ৯২ কিস্তি পরিশোধ করেছেন। ঋণ নেওয়ার সময় কথা ছিল, দিনের বেচা-কেনা শেষে রাত ৯-১০টার মধ্যে কিস্তি দিতে হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় আব্দুস সাত্তারকে কিস্তি দিতে চাপ দেন ঋণ আদায়ের দায়িত্বে থাকা শিমুল। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর শিমুল চলে যান। কিছুক্ষণ পরে রোকোনুজ্জামানের বাবাকে ডেকে কিস্তি পরিশোধ করেন আব্দুস সাত্তার। এ ঘটনায় রোকনুজ্জামান যেন কোনও ঝামেলায় না জড়ান সেই অনুরোধও করেন ওই দোকানিসহ স্থানীয় কয়েকজন।
কিন্তু রাত ৯টার দিকে রোকোনুজ্জামান ও শিমুলসহ কয়েকজন দোকানি আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জাড়ান। এক পর্যায়ে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় একজনের হাতে থাকা মোটরসাইকেলের চাবি লেগে দোকানির মাথা রক্তাক্ত হয়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেন স্বজনরা। এ ঘটনায় শুক্রবার (২৬ আগস্ট) রোকোনুজ্জামান ও শিমুলসহ অজ্ঞাত তিন-চার জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন আব্দুস সাত্তারের ছেলে সাব্বির।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আফজাল হোসেন জানান, রাতে শহরের মীরপাড়া এলাকা থেকে রোকোনুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। আজ দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাহীন জানান, তিনি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ফরহাদ বিন আজিজের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি তদন্ত করবে জেলা ছাত্রলীগ। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে রোকোনুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।