উদ্বোধনের এক মাস না যেতেই শহর রক্ষা বাঁধে ধস

উদ্বোধনের এক মাস না যেতেই নাটোরের সিংড়া শহর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। গত ৩০ জুলাই ওই বাঁধের উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। বাঁধের ওয়াকওয়েতে ধস দেখার পর স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের জন্য এমনটা যাচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, মূল বাঁধে কোনও সমস্যা হয়নি।

জানা গেছে, আত্রাই নদীর তীরবর্তী সিংড়া শহর এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বাস। তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল ওই বাঁধ। সিংড়া আসনের সংসদ সদস্য ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রায় ১৭ কোটি টাকার ১৭শ’ ৮ মিটার শহর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প অনুমোদন হয়। ২০১৯ সালের এপ্রিলে নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় এর কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

উদ্বোধনের আগে থেকেই ওই বাঁধ হয়ে উঠেছিল পৌর নাগরিকসহ সব মানুষের বিনোদন আর অবসর যাপনের স্থান। প্রতিদিন বিশেষ করে বিকাল হলেই নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণায় মুখর হয় বাঁধ এলাকা। কিন্তু সম্প্রতি সবার নজরে আসে বাঁধের ধস। এরপরই শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয়দের দাবি, সিংড়া ব্রিজ সংলগ্ন শহর রক্ষা বাঁধের পাশে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি বালু আনলোড করার ড্রেজার বেঁধে রেখেছেন। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিন চালু করে বালু আনলোডের সময় ব্যাপক কম্পনের সৃষ্টি হয়। এ কারণে বাঁধ ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ করা বাঁধ ধসে যাচ্ছে

পৌর নাগরিক হাফিজুর রহমান সবুজ বলেন, ‘নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের স্বপ্নের বাঁধ এটি। এর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম সামিরুল ইসলাম বলেন, ‘পৌর মেয়রের সঙ্গে কথা বলে বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর মেয়র ও সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, বিষয়টি জানার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ জানান, বিষয়টি জানার পর তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মূলত ওই বাঁধের পাশ দিয়ে পৌর ড্রেন রয়েছে। সম্প্রতি ওই ড্রেনের পানি উপচে বের হওয়ায় ওয়াকওয়েতে প্রায় ১০ ফুট ধস দেখা দিয়েছে। তবে মূল বাঁধের কোনও ক্ষতি হয়নি। শনিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে ধস সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন ওই প্রকৌশলী।