সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সময় বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন বাংলাদেশি সেনা সদস্য শরিফ হোসেন। ইচ্ছে ছিল দ্রুতই মিশন থেকে ফিরে আদরের ছোট বোন লাকি খাতুনকে বিয়ে দেবেন। তার সেই স্বপ্নটা আর পূরণ হলো না।
বুধবার (৫ অক্টোবর) সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বেড়া খারুয়া গ্রামে শরিফ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় প্রতিবেশী ও স্বজনদের সঙ্গে। সবাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দরিদ্র পরিবারের ছেলে শরিফ হোসেন। তাঁতের কাজ করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে সেনা সদস্য হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘মাগো মিশন আর ভালো লাগছে না, দ্রুতই দেশে ফিরবো’
অঝোরে কাদঁতে কাদঁতে শরিফের মা পানজু আরা বেগম বলেন, আমার ছেলে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করে সেনাবাহিনীর চাকরি পেয়েছিল। মিশনে যাওয়ার আগে আমার ছেলে বলেছিল, মিশন থেকে ফিরে আমার মেয়ে লাকিকে ভালো একটা ছেলে দেখে বিয়ে দেবে। আমার ছেলের সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
আরও পড়ুন: আইইডি বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত
শরিফের ছোট ভাই কাউছার হোসেন বলেন, আমার বড় ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে আমাদের বাড়িঘর ঠিক করে আমাদের আদরের ছোট বোন লাকি খাতুনকে ভালো একটা ছেলে দেখে বিয়ে দেবে। আমার ভাইয়ের সেই স্বপ্নটা আর পূরণ হলো না। বড় ভাইয়ের টাকায় আমাদের সংসার চলে, আমার ভাই এখন নেই। ছোট বোনকে কীভাবে এখন বিয়ে দেবো। আমার ভাই দেশের জন্য মিশনে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে আমাদের আবেদন, সংসার চালানো জন্য যেন পরিবারের একজনকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন।
আরও পড়ুন: শান্তিরক্ষী জাহাংগীরের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ বাবা, অঝোরে কাঁদছেন স্ত্রী
এরআগে, সোমবার (৩ অক্টোবর) সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৪ অক্টোবর রাত ১টা ৩৫ মিনিট) বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের একটি গাড়িতে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর- আইএসপিআর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিস্ফোরণে বাংলাদেশি তিন সেনা সদস্য প্রাণ হারান। তাদের একজন সিরাজগঞ্জের শরিফ হোসেন। এছাড়া বিস্ফোরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জসিম উদ্দিন (৩১) ও নীলফামারীর জাহাংগীর আলম (২৬) প্রাণ হারিয়েছেন।