এক বছর আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন শফিকুল ইসলাম। সে সময় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে আলোচনায় আসেন তরুণ এই সরকারি কর্মকর্তা। তার পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও ব্যবহারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিরাপদ সবজি গ্রাম প্রতিষ্ঠা। ওই সময় মুজিববর্ষকে সামনে রেখে তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউপির কালিদিঘিকে নিরাপদ সবজি গ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন। যেখানে অর্ধশতাধিক কৃষকের বাড়িতে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করেন। কৃষিক্ষেত্রে এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহার ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক পেয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিরাপদ সবজি গ্রাম প্রতিষ্ঠায় অসংখ্য উঠান বৈঠক, মোটিভেশন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১০ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষিত করেছেন কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। প্রশিক্ষণ নিয়ে এসব কৃষক নিরাপদ ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার প্রচেষ্টায় তানোর উপজেলার অনেক কৃষক নিরাপদ সবজি উৎপাদন করেন। অনেকে দ্বিগুণ ফসল উৎপাদন করেন।
একইভাবে গোদাগাড়ী উপজেলায় তার প্রচেষ্টায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। এর ফলে এই উপজেলার কৃষকরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, মুজিববর্ষে ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা থেকে তিনি গোদাগাড়ীর কালিদিঘি গ্রামের কৃষকদের বাড়ির আনাচে-কানাচে নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। নিরাপদ সবজি বলতে সেখানে কোনও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। পোকা দমনে শুধু জৈব বালাইনাশক, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ স্টিকি ফাঁদ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কৃষকদের কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যেই উদ্যোগটা প্রশংসিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, 'এসব কাজ করতে সরকারি তহবিল থেকে একটি টাকাও খরচ করা হয়নি। আমি ও আমার সহকর্মীরা নিজের থেকে এটা করেছি। এখন গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে নিরাপদ সবজি চাষ হচ্ছে। এখন অন্য গ্রামের কৃষকরাও এটা অনুসরণ করছেন।'
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, 'একটি জমিতে বারবার রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির বৈশিষ্ট্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মাটির অম্লতা নষ্ট হয়। পানি ধারণক্ষমতা কমে অনুজৈবিক কার্যাবলী ব্যাহত হয়। এতে মাটির উৎপাদন ক্ষমতা দিনদিন কমে যাচ্ছে। সে কারণে জৈব এবং প্রাণিজ সার ব্যবহারের জন্য পরামর্শসহ বিশেষায়িত উদ্যোগ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে চেষ্টা করেছি। এতে সফল হয়েছেন চাষিরা। আমিও কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি।'
বুধবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৫ ও ১৪২৬’ প্রদান করা হয়। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহার ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক পেয়েছেন পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। এদিন তাকে সনদপত্র, স্বর্ণপদক ও এক লাখ টাকা পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন।
কৃষিখাতে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিস্বরূপ ১০টি ক্যাটাগরিতে এদিন মোট ৪৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৪২৫ বঙ্গাব্দের জন্য ১৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান এবং ১৪২৬ বঙ্গাব্দের জন্য ২৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি স্বর্ণপদক, ২৫টি ব্রোঞ্জপদক ও ১৬টি রৌপ্যপদক বিতরণ করা হয়।
পাশাপাশি বিজয়ীদের সনদ, পদক ও নগদ টাকা দেওয়া হয়। স্বর্ণপদকপ্রাপ্তরা এক লাখ, রৌপ্য পদকপ্রাপ্তরা ৫০ হাজার এবং ব্রোঞ্জ পদকপ্রাপ্তরা ২৫ হাজার টাকা পেয়েছেন।