সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বেতিল স্পার বাঁধে ধস নেমেছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার (২১ অক্টোবর) পর্যন্ত বাঁধের প্রায় ১৫০ মিটার যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্পারটি ধসের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে ওই এলাকার মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আজুগড়া সাবমেরিন কেবল সাইডের সার্স লাইন, ফসলি জমি ও বসতভিটা।
এদিকে চৌহালী উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গেলো সপ্তাহের ভাঙনে এই এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন নদীতে বিলীন হয়েছে। আরেকটি দোতলা ভবন নদীর তীরে হেলে পড়েছে। যেকোনও সময় ভবনটি নদীতে ভেঙে পড়বে। এতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে।
নদী ভাঙনের মুখে রয়েছে চাঁদপুর তা মীরুল মিল্লাত হাফিজিয়া মাদ্রসা, সদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৌহালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এলাঙ্গী আটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এলাকাবাসী জানান, চলতি মাসে যমুনায় পানি বাড়ায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বেলকুচি উপজেলার মেহেরপুর থেকে চৌহালী উপজেলার বেড়ি বাঁধ পর্যন্ত নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে প্রায় শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। নদীতে বাড়িঘর হারানো মানুষ আশ্রয়ের অভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করছেন।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রনজিত কুমার সরকার বলেন, ‘বেতিল স্পারে ধস নামায় স্পারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। শুধু বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানা সম্ভব না। পানি কমে গেলে স্পারটি সংস্কার করা হবে।’