বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ১০ দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় রাজশাহী বিভাগে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে কোনও বাস চলছে না। রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক পরিষদের ডাকা ধর্মঘটের ফলে নাটোর থেকে কোনও বাস ছেড়ে যায়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চাপ বেড়েছে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ও ট্রেনে।
সরেজমিন দেখা গেছে, নাটোর শহরের বড়হরিশপুর এলাকা ও মাদ্রাসা মোড়ের বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে আছে বাস। পাশেই বন্ধ অবস্থায় রয়েছে ট্রাক। তবে সড়কে রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন থ্রি হুইলার চলছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় এই ধরনের যানবাহনের চলাচল বেশি। পাশাপাশি নাটোর রেলস্টেশনেও যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তারপরও বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীদের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
হরিশপুর বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী রওশন আরা বলেন, ‘শুক্রবার একটি চাকরির পরীক্ষা আছে, তাই ঢাকায় যেতে হবে। সিংড়া থেকে প্রায় তিন গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে এসেছি। এখন ঢাকা যাওয়ার উপায় খুঁজছি।’
মাদ্রাসা বাসস্ট্যান্ডের আসা যাত্রী হাকিম জানান, ‘জরুরি কাজে রাজশাহী যেতে হবে। কিন্তু কীভাবে যাবো বুঝতে পারছি না। কেটে কেটে গাড়িতে গেলে সময় আর ভাড়া গুনতে হবে কয়েকগুণ।’
সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া এলাকার বাসিন্দা কামাল জোসেন বলেন, ‘রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। বাস চলছে না। বাধ্য হয়ে ছোট যানবাহনেই যেতে হবে। এতে ভাড়াও গুনতে হবে কয়েকগুণ বেশি। কিন্তু উপায় নেই। তাই রওনা হয়েছি।’
সদর উপজেলার ভাটোদাড়া এলাকার অটোরিকশাচালক ফিরোজ জানান, ধর্মঘটের কারণে যাত্রীদের,চাপ বেশি। তবে তারা অতিরিক্ত কোনও ভাড়া নিচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি।
নাটোর রেলস্টেশনের দায়িত্বরত স্টেশন কর্মকর্তা অশোক চক্রবর্তী জানান, নির্ধারিত সিডিউলেই ট্রেন চলাচল করছে। তবে অন্য দিনের তুলনায় রাজশাহী ও ঢাকারুটে যাত্রীদের চাপ বেশি। নির্ধারিত সব টিকিট বিক্রি হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উত্তরাঞ্চলীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘৩ ডিসেম্বর বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশ ঠেকাতেই সরকারের নির্দেশে পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। কিন্তু ইতোমধ্যে নাটোরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী রাজশাহী পৌঁছেছেন। সরকার, সরকার দলীয় লোকজন, বা পুলিশের কোনও বাধাই ওই সমাবেশকে রুখতে পারবে না।’
নাটোর বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি লক্ষন পোদ্দার বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি আদায়ে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই ব্যাপারে কোনও ঘোষণা না আসায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশের সাথে এই কর্মসূচির কোনও সম্পর্ক নেই।’