প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে শত বাধা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী করা এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যেখানে এক সময় বিশ্বে পাঁচটি গরিব দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছিল একটি, সেখানে চারিদিকে এত উন্নয়ন এটা আপনা-আপনি হয়নি। এখন ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে আমাদের জিডিপি বেশি। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি ধনী দেশ হবে।’
শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পাকিস্তান ও ১৬ আগস্ট ভারত স্বাধীন হয়েছিল। ওই সময়ে দুই দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে একটি ধর্মীয় অসম্প্রীতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আমাদের দেশে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধসহ সবসময় মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট ছিল। আমরা সারা পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছি, একসঙ্গে এক অঞ্চলে কীভাবে থাকতে হয়।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম কখনও রাজনীতির হাতিয়ার হতে পারে না। সরকারি কোনও ক্ষেত্রে ধর্মের বিপক্ষে কাজ হয় না। আমরা যারা দেশের জন্য কাজ করি, তারা কেউ ধর্মের বিরোধিতা করি না। সম্প্রীতি মানে শুধু ধর্ম না এর সঙ্গে সামাজিকতাও জড়িয়ে আছে। আমাদেরকে সামনে এগোতে হলে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে, ভাই-ভাই সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। সবাই সমানভাবে কাজ না করলে দেশ এগিয়ে যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভঙ্গুর অবস্থা। ডানপন্থি রাজনীতিবিদরা আমাদের কাছে জানতে চায়, কীভাবে আমাদের দেশে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখেছি।’
সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা অনেক ভালো আছি, এটা অনেকে সহ্য করতে পারে না। গত ১৪ বছরে আমাদের দেশের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগামীতে আমরা আরও অনেক দূর যেতে চাই। স্বাধীনতার পর জাতীয় জীবনের ৫২ বছর সম্প্রীতি নিয়ে চলেছি। বাকি সময়ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে চলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, পৌর মেয়র মো. একরামুল হক।