বগুড়ায় কবরস্থানের জমি নিয়ে ১৫ বছরের বিরোধের জেরে পুলিশ কনস্টেবল আবেদুর রহমানের লাঠির আঘাতে জীবন নেছা (২৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৭ মে) দুপুরে সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের কুটুরবাড়ি মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, নিহত নারী বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের কুটুরবাড়ি মধ্যপাড়া গ্রামের পলাশ মিয়ার স্ত্রী। তার স্বামীর অভিযোগ, কবরস্থানের দুই শতক জমির মালিকানা নিয়ে গত ১৫ বছর ধরে প্রতিবেশী মৃত ইজার উদ্দিনের ছেলে পুলিশ সদস্য আবেদুর রহমানের সঙ্গে বিরোধ চলছে। ঢাকায় কর্মরত এই পুলিশ সদস্য বাড়িতে এলেই ক্ষমতার প্রভাবে তাদের হুমকি-ধমকি দেয়। আজ দুপুরে জীবন নেছা মাঠে ধান কাটা শ্রমিকদের খাবার দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় আবেদুর রহমান তার দুই ভাই বিপ্লব ও জহুরুল এবং তার ছেলে কনক পথরোধ করে। এরপর তাকে ধরে আমবাগানে নিয়ে বাঁশ দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুপুর ২টার দিকে মারা যায়।
তিনি আরও বলেন, এভাবে আমার স্ত্রীকে হত্যা করা হবে জানলে ওই জমি আমি তাদের দিয়ে দিতাম। এর আগে আমার ভাই রাজু আহমেদকেও মারধর করা হয়।
রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজিবুল ইসলাম খান জানান, কবরস্থানের দুই শতক জমি নিয়ে ওই দুটি পরিবারের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে তিনি কয়েকবার সালিশসহ ডেকে মীমাংসাও করা হয়েছে। এরপরও তাদের মাঝেমধ্যে গণ্ডগোল লাগে। এর জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সদর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ কনস্টেবলের লাঠির আঘাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। বিকাল পর্যন্ত মামলা হয়নি। নিহতের স্বজনরা পুলিশ সদস্যসহ পরিবারের চার জনের নাম বলেছেন। লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।