বিয়ের পরে স্বামীর মুখ অবেশেষে সরাসরি দেখতে পেলেন প্রবাসী রুবেল হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন। তবে এ দেখা বুকের জ্বালা আরও বাড়িয়েছে। স্বামীর নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে আহাজরিতেই শেষ ভালোবাসা প্রকাশ করলেন মরিয়ম। সরাসরি প্রথম দেখাই হলো শেষ দেখা। গত ১৪ জুলাই সৌদির দাম্মামের হফুফ শহরে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত রাজশাহীর বাগমারার চার প্রবাসীর বাড়িতে লাশ আসার পর আহাজারি ও বেদনার প্রকাশ ভিন্ন হলেও যন্ত্রণাগুলো যেন একই। নিহতদের শেষ বিদায়ে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো বাগামারাতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
সৌদিতে ওই অগ্নিকাণ্ডে মোট নয় জন নিহত হন। এর মধ্যে বাংলাদেশি সাত জন। যাদের চার জনের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বারইপাড়া ও বড় মাধাইমুড়ি গ্রামে। বুধবার (৯ আগস্ট) চার জনেরই লাশ আসে। এ সময় গ্রাম দুটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। আশপাশের গ্রামগুলো থেকেও হাজারও মানুষ শেষবারের মতো এই দুই প্রবাসীকে দেখতে ভিড় জমান।
নিহত চার শ্রমিক হলেন- বারইপাড়া গ্রামের জফির উদ্দিনের ছেলে রুবেল হোসেন, একই গ্রামের জমিরের ছেলে মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম, সাজেদুলের ভাতিজা আরিফ হোসেন রুবেল ও বড় মাধাইমুরি গ্রামের আনিসুর রহমান সরদারের ছেলে ফিরুজ আলী সরদার।
স্ত্রীর মুখ সরাসরি দেখার সৌভাগ্য আর হয়ে ওঠলো না রুবেলের। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে সৌদিতে ছয় বছর আগে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। স্বামীর লাশ আসার পর কখনও কাঁদছিলেন, কখনো শোকে পাথর হয়ে যাচ্ছিলেন মরিয়ম।
বুধবার সকালে প্রথমে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আনা হয় সাজেদুল ও আরিফের লাশ। সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা তারা। এরপর আসে রুবেল ও ফিরুজের লাশ। তাদের হারিয়ে পাগলপ্রায় স্বজনেরা।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এফ এম আবু সুফিয়ান জানান, মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) রাতে চার জনের লাশ ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। সরকারি উদ্যোগে চার জনের লাশ আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বুধবার বেলা ২টায় ফিরুজ আলী সরদার, বেলা আড়াইটায় রুবেল হোসাইন শেখ এবং বেলা ৩টায় সাজেদুল ইসলাম ও তার ভাতিজা আরিফের জানাজা শেষে দাফন হয়েছে।
বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ওসমান গণি বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে মরদেহগুলো নিজ নিজ পরিবারে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফনও সম্পন্ন হয়েছে।