বগুড়ার আইএইচটিতে ‘রাজত্ব’ সৃষ্টিকারী ছাত্রলীগের সাবেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়া ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) ‘রাজত্ব’ সৃষ্টিকারী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শাহরিয়ার হোসেন শুক্রবার (১ আগস্ট) মধ্যরাতে সদর থানায় এ মামলা করেন।

এজাহারে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অর্থ আদায়, মারধর, প্রতারণা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ, এজাহার সূত্র ও শিক্ষার্থীরা জানান, সজল ঘোষ বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকার মৃত সুমেন ঘোষের ছেলে। ছাত্রত্ব না থাকার পরও তিনি গত এক বছর বগুড়া আইএইচটি’র হোস্টেলে ২১৮ নম্বর কক্ষ দখলে রেখে প্রতিষ্ঠানে রামরাজত্ব চালিয়ে আসছেন।

অধ্যক্ষের মদতে সেখানে মাদক সেবন, সিট বাণিজ্য, অসামাজিক কার্যকলাপ, মিলের টাকা আত্মসাৎ, পিকনিকের নামে চাঁদা আদায়, পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরসহ নানা নির্যাতন করে আসছিলেন।

সেখানে সন্ত্রাসীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সজলকে গ্রেফতার ও তাকে প্রশ্রয়দানকারী অধ্যক্ষ ডা. আমায়াত উল হাছিন ঝিমলির অপসারণের দাবিতে ফুঁসে ওঠেন। গত ২৯ আগস্ট থেকে তিন দিন সড়ক অবরোধ, ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সব শিক্ষার্থী মামলার বাদী হতে চাওয়া নিয়ে মামলায় বিলম্ব ঘটে। অবশেষ শুক্রবার মধ্যরাতে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শাহরিয়ার হোসেন সদর থানায় সজল ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তবে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ডা. আমায়াত উল হাছিন ঝিমলি সাবেক ছাত্র সজল ঘোষকে মদত দেওয়ার বিষয়টি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে জানান, গত চার বছর এখানে দায়িত্ব পালনকালে ওই বহিরাগতের হোস্টেলে থাকার বিষয়টি তার জানা নেই। জানার পর ওই রুমে তালা দেওয়া হয়েছে। তাকে পেলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হবে।

মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় অভিযুক্ত সজল ঘোষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনের মতো তাদের অধ্যক্ষ ডা. আমায়াত উল হাছিন ঝিমলিও রেহাই পাবেন। প্রশাসন তদন্তের নামে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে রিপোর্ট ধামাচাপা দেবেন। ফলে তাদের কিছুই হবে না।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা বলেন, সজল ঘোষ সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তাই সাবেক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। এছাড়া তিনি আইএইচটি’র মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের গেস্ট লেকচারার বলে শুনেছি। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হবে।

সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।