‘আওয়ামী লীগ দল গোছাতে পারে, পুনর্গঠন করতে পারে’ এমন মন্তব্য করায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান হয়েছে। সোমবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজশাহীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।
সারা দেশে চলমান আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা ও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূূচি থেকে এ হুঁশিয়ারি দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহীর সমন্বয়ক মেহেদী সজীব। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখনও দমে যায়নি। আমরা গণভবন থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ার্ড ফ্যাসিবাদমুক্ত করেই ছাড়বো। আজকের এই গণজমায়েত থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলতে চাই, আপনি যে খুনি, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তার জন্য আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে ছাত্র-জনতা যে জায়গায় আপনাকে বসিয়েছে, সেই জায়গা থেকে নামাতে ভাববে না। কোনও অবস্থায় ছাত্র-জনতার মতের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন না। এই দেশে আওয়ামী স্বৈরাচারের আর কোনোদিন জায়গা হতে পারে না।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) প্রতিনিধি নাইম উদ্দীন বলেন, ‘আমরা আবু সাঈদ হত্যার কথা ভুলে যাইনি, আমরা মুগ্ধ ভাইকে ভুলে যাইনি। আমাদের শহীদ ভাইদের রক্ত এখনও আমাদের প্রতিটি শিরায় শিরায় প্রবাহমান। স্বৈরাচার পালিয়ে এখন ভারতে বসে আমাদের স্বাধীনতাকে খর্ব করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা স্বৈরাচারের এই চেষ্টা সফল হতে দেবো না। প্রয়োজন হলে আরও একটি রক্তের নদী বয়ে যাবে। স্বৈরাচারের সব ষড়যন্ত্র আমরা সেই রক্তের নদীতে ভাসিয়ে দেবো। ছাত্রসমাজ একতাবদ্ধ হলে এই বাংলার বুকে স্বৈরাচারের কোনও ষড়যন্ত্র সফল হবে না।’
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ হোসাইন আহমদ মেহ্দী বলেন, ‘দিল্লির মসনদে যারা আছেন তারা খুনি হাসিনার সঙ্গে থাকবেন না। ছাত্র-জনতার পাশে থাকবেন, না হলে ইতিহাস আপনাদের ক্ষমা করবে না। যারা সারা বছর স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পক্ষে ছিল তারা এখন মায়াকান্না করছে। তারা বলছে বিপ্লব মানি, সম্পদের ধ্বংস মানি না। আমি তাদের বলবো, সম্পদ ফিরে আসবে কিন্তু আবু সাঈদ, আলী রায়হান, সাকিব আনজুমসহ আমাদের শহীদরা ফিরে আসবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী বলছে ছাত্ররা আন্দোলন করেছে ঠিক আছে, কিন্তু তাদের উপদেষ্টা করা ঠিক হয়নি। তাদের মুখে জুতার বাড়ি। যারা আন্দোলন করেছে তাদের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য অবশ্যই ছাত্রপ্রতিনিধি থাকতে হবে। সেইসঙ্গে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে যাতে হামলা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে রাজশাহীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের নামে বিভিন্ন চত্বরের নাম ঘোষণা করেন আন্দোলনের সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর তিন জন শহীদ ভাইয়ের নামে তিনটি চত্বরের নাম ঘোষণা করে দিচ্ছি। সেটা প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব আপনার আমার। এখন থেকে রাজশাহী শহরের আলুপট্টি মোড়কে শহীদ আলী রায়হান চত্বর, সাগরপাড়া মোড়কে আমরা রাজশাহী প্রথম শহীদ শাকিল চত্বর, আমাদের আন্দোলনের সূচনা এবং বিজয় যেখান থেকে হয়েছে সেই তালাইারী মোড়কে আমরা ‘বিজয় ২৪’ চত্বর, ফ্যাসিবাদের জন্মদাতা মুজিব চত্বরের উৎপাটন করে সেটাকে ‘বিজয় ২৪’ চত্বর এবং শহীদ সাকিব আনজুম ভাইয়ের স্মরণে নগরীর ভদ্রার মোড় হবে শহীদ শাকিব আনজুম চত্বর।’
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে নগরীর তালাইমারী গিয়ে কিছুক্ষণ কর্মসূচি পালনের পর পুনরায় কাজলায় এসে শেষ হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও নানা শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন।