বগুড়ায় চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী গুরুতর আহত

বগুড়া শহরে ১০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় আকুল হোসেন রানা (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত তার স্ত্রী রোজিনা বেগমকে (৩৮) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে শহরের পশ্চিম জয়পুরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর রেদওয়ানুর রহিম বলেন, ‌‘লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ নিহত আকুল হোসেন রানা বগুড়া শহরের পশ্চিম জয়পুরপাড়ার মৃত আজিজার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় লোহা ব্যবসায়ী ছিলেন। 

পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহতের ভাতিজা মর্তুজা জানান, গত রবিবার রাতে কর্মস্থল থেকে রিকশায় বাড়ি ফেরেন রানা। বেশি ভাড়া চাওয়া নিয়ে রিকশাচালকের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় ওই এলাকার ইনসানসহ কয়েকজন যুবক রানার পক্ষ নিয়ে রিকশাচালককে মারধর করেন। পরে রিকশাচালক তার স্বজনদের নিয়ে এলাকায় আসেন এবং রানা ও ইনসানকে মারধর করেন। কিছুক্ষণ পর সবাই বাড়ি ফেরেন। 

মঙ্গলবার রিকশাচালককে মারধর এবং তার স্বজনদের পাল্টা মারপিটের শিকার ইনসান ও তার সহযোগীরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যবসায়ী রানার কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর ক্ষুব্ধ হন ইনসান। রাতে বোনের বাড়িতে পারিবারিক অনুষ্ঠানে রানা ও তার স্ত্রী রোজিনা
বেগম অংশ নেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত ১২টার দিকে তারা রিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। রিকশা থেকে নেমে হেঁটে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় রানা এবং তার স্ত্রী রোজিনাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান ইনসান ও তার সহযোগীরা। খবর পেয়ে স্বজনরা ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসকরা রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রোজিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রেদওয়ানুর রহিম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চাঁদা না পেয়ে ওই দম্পতিকে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। রানার লাশ শজিমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে সদর থানায় হত্যার প্রস্তুতি চলছে। আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে।’

এ নিয়ে সোমবার রাত ৯টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত গত ২৭ ঘণ্টায় বগুড়ায় তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো। আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে শহরতলির গোকুল বাজার এলাকায় সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজানকে কুপিয়ে হত্যা করা
হয়। এ সময় হামলাকারী প্রতিপক্ষ যুবদল কর্মী সানোয়ার হোসেন লেদোকে আটক করে মারপিট করে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে পাঠায়। ওই দিন রাত ১১টার দিকে মিজানের লোকজন জরুরি বিভাগে ঢুকে ভাঙচুরের পর লেদোকে আবারও মারধর করলে মৃত্যু হয়।