ধর্ষণের অভিযোগে যুবলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন কলেজছাত্রীর

রাজশাহীতে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে। বুধবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেছেন রাজশাহীর একটি সরকারি কলেজের এক ছাত্রী।

অভিযুক্ত হিটলার মাহমুদ (৩৬) বাগমারা উপজেলার হাসনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আওয়ামী লীগের বাগমারার সাবেক এমপির অনুসারী ও যুবলীগ কর্মী। হিটলারের বাবা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের নেতা। এতদিন হিটলারের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি ভুক্তভোগী ছাত্রী। আওয়ামী সরকারের পতনের পর গত ২৮ নভেম্বর হিটলারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।

কলেজছাত্রীর দাবি, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির প্রভাবের কারণে তিনি আগে বিচার পাননি। হিটলার যুবলীগ কর্মী হলেও তার মামা ও চাচা বিএনপির নেতা। এখন মামলা করেও সুবিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন। তারা নানাভাবে তাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।

ছাত্রী বলেন, ‘মামলা করার পরও এখন পর্যন্ত কোনও তদন্ত কর্মকর্তা আমার সঙ্গে কথা বলেননি। কোনও তথ্য-প্রমাণ চাননি। আমি আওয়ামী লীগের আমলে বিচার পাইনি। এখনও কি বিচার পাবো না?।’

সংবাদ সম্মেলনে কলেজছাত্রী জানান, ২০২০ সালের মে মাসে হিটলার তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর বাগমারার ভবানীগঞ্জ তক্তপাড়ায় তার এক বোনের বাসায় এবং রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর ঝাউতলা মোড়ের এক বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করে। কিন্তু বিয়ের জন্য চাপ দিলে এড়িয়ে যায়। তখন ছাত্রী বিয়ের দাবিতে একবার হিটলারের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। ওই সময় হিটলারের বাবা এই বলে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন, কিছুদিনের মধ্যে বিয়ে করিয়ে আনা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে বিয়ের আয়োজন করা হয়নি। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি হিটলারকে এড়িয়ে যেতে শুরু করেন। তখন হিটলার গোপনে ধারণ করা কিছু ছবি এবং ভিডিও পাঠায়। তার কথামতো না চললে এগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। ওই ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে হিটলার দিনের পর দিন তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ছাত্রীর।

তিনি জানান, হিটলারের বিরুদ্ধে মামলা করতে গত ২০ নভেম্বর বাগমারা থানায় যান। সেদিন ওসি তৌহিদুল ইসলাম একটি অভিযোগ নিয়ে রাখেন। পরে জেনেছি, এক লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তিনি মামলা রেকর্ড করেননি। ২৮ নভেম্বর আদালতে গিয়ে ধর্ষণের মামলা করেন। এরপর হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন। মামলা করার পর তিনি জেনেছেন হিটলার তিন বিয়ে করেছে। পরে তালাক হয়ে যায়। বর্তমানে আরেক মেয়ের সঙ্গে প্রেম করছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সঙ্গেও তার প্রেমের সম্পর্ক আছে। মূলত হিটলার প্রতারক। মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। 

এসব অভিযোগের ব্যাপারে যুবলীগ কর্মী হিটলার মাহমুদ বলেন, ‘প্রেম তো স্বাভাবিক ঘটনা, প্রেম হতেই পারে। কিন্তু ওই মেয়ে ভালো না। বিয়ে করতে চাইলে বিয়ে করে না। ১০ লাখ, ২০ লাখ টাকা চায়। সে যেসব অভিযোগ করেছে সেগুলো সত্য নয়। সে মামলা করেছে, সেটি আমি আইনিভাবে মোকাবিলা করবো।’

ওই কলেজছাত্রীর আইনজীবী আরিফুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘হুমকি-ধমকি দেওয়ার মামলায় আসামি হিটলার মাহমুদসহ অন্যরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেয়েছেন। আর ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের মামলা পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত। তদন্ত প্রতিবেদন আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।’