বগুড়ায় মদপানে মৃত বেড়ে তিন, আরেকজন চিকিৎসাধীন

বগুড়ায় মদপানে অসুস্থ সনি রায় (৪৫) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ নিয়ে দুদিনে তিন জনের মৃত্যু হলো। অসুস্থ একজন বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

রবিবার বিকালে ছিলিমপুর মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই লালন হোসেন আরও একজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন। সনি রায় বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া হাড়িপাড়া এলাকার জয়দেব রায়ের ছেলে। এর আগে মৃত দুজন হলেন- হাড়িপাড়ার মৃত আবু তালেবের ছেলে মো. রাসেল (৩৫) ও একই এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে আওরঙ্গজেব চিনতু (৪২)। অসুস্থ অবস্থায় একই এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে এনামুল হক পিলু (৫০) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

পুলিশ, মৃতদের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, আওরঙ্গজেব দীর্ঘদিন ধরে মদপান করেন। ২৭ মার্চ বিকালে শহরের ১ নম্বর রেলগুমটি এলাকার একটি দোকান থেকে তিন বোতল অ্যালকোহল কেনেন। ওই দিন সন্ধ্যায় আওরঙ্গজেব, রাসেল, সনি রায় ও আমজাদ হোসেনের ছেলে এনামুল হক পিলু (৫০) ওই অ্যালকোহল পান করেন। এতে কোনও বিষাক্ত উপাদান থাকায় পরদিন ২৮ মার্চ তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের পাতলা পায়খানা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। রাত ১২টার দিকে রাসেল ও আওরঙ্গজেবকে শজিমেক হাসপাতালে আনার পথে আওরঙ্গজেব মারা যান। রাসেলকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিনিও মারা যান। শনিবার দুপুরে সনি রায়কে শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। রাত ১০টার দিকে তিনিও মারা যান। মৃতরা পুলিশের ভয়ে ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত দাবি করে হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ছাড়া পিলুকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

এসআই লালন হোসেন জানান, মদপানে অসুস্থ সনি রায় শনিবার রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, ‘অতিরিক্ত মদ পানে অসুস্থ হয়ে হাড়িপাড়া এলাকার তিন জনের মৃত্যু হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি গোপন রাখা হয়। তাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হলেও মদপানে মৃত্যুর বিষয়টি চেপে যায় পরিবার। পরে হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেট (মৃত্যুসনদ) দেখে মদপানে তিন জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে অতিরিক্ত মদপানে নাকি বিষাক্ত মদপানে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ জানান, মদপানে অসুস্থ অবস্থায় ওই তিন জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে দফায় দফায় তাদের মৃত্যু হয়।