ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইডিজেড) আরেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হলো। এখনও পাঁচ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩ জুন) সকাল ৯টার দিকে মারা যান মাহফুজা খাতুন নামের এক নারী শ্রমিক। তিনি ঈশ্বরদী পৌর শহরের পিয়ারাখালী জামতলা এলাকার বাসিন্দা সাগর হোসেনের স্ত্রী। মাহফুজা ইডিজেডের নাকানো ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার পরিবার দাবি করেছে, ইপিজেডের সরবরাহ করা দূষিত পানি পান করায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন এবং সোমবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত রবিবার রাতে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনা খাতুন (২৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। কনা উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের ফমিন ইসলামের স্ত্রী। তিনি ইপিজেডে আইএইচএম কোম্পানির কোয়ালিটি কাটিং সেকশনে কাজ করতেন।
এদিকে, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে আরও ৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর আগে গত তিন দিনে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৯৯ জন। এ নিয়ে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৪৭। রোগীদের অধিকাংশই ঈশ্বরদী রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার শ্রমিক।
ডায়রিয়া পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সোমবার দুপুরে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইইডিসিআর) ছয় সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল ঈশ্বরদী পৌঁছেছেন। হঠাৎ কেন এত মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তারা তা পর্যবেক্ষণ ও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করবেন।
ছয় সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন আইইইডিসিআরের চিকিৎসক এ এইচ এম মোস্তফা কামাল। কমিটির সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন। অন্যান্য সদস্য হলেন- চিকিৎসক শরিফ উদ্দিন হাসনাত, ফাহমিদা ফাইজা, রাজেশ দেব, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট সোহেল রানা এবং ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট সজিবুল ইসলাম।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আলী এহসান বলেন, ‘ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে পরিসংখ্যান ঠিক রাখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি বেশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। বিষয়টি ঢাকায় জানানো হয়েছিল। আইইইডিসিআর থেকে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল ঈশ্বরদীতে কাজ করছেন। তারা বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন। ইপিজেড এলাকা পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তারা।’
ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’
ঈশ্বরদী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক এ বি এম শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈশ্বরদী ইপিজেডে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। ইতিমধ্যে প্রতিটি কারখানার খাবার পানি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কারখানা এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। আমরা নিজেরাও বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। তবে মঙ্গলবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির কাছে ও মেডিক্যাল সেন্টারে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন মজুত রাখা হয়েছে। অসুস্থ শ্রমিকদের সেখানে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনও পানি পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে আসেনি। ওই প্রতিবেদন হাতে এলে বোঝা যাবে, আসলে ঘটনা কী।’