থানায় বসে ঘুষ নিয়ে ধরা পড়লেন পুলিশ পরিদর্শক

রাজশাহীর বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমলেশ দাসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে তাকে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম গ্রহণ করে তার ভেতরের টাকা গণনা করতে দেখা যায়। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ অবস্থায় সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে রবিবার (৭ জুন) রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৫২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ কার্যালয়ে বসে কমলেশ দাস একজন ব্যক্তির কাছ থেকে একটি খাম নেন। পরে খামের ভেতর থাকা নোটগুলো বের করে দ্রুত গুনে নিজের মানিব্যাগে রাখেন। পুরো ঘটনার সময় অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তির সঙ্গে তাকে স্বাভাবিক ও হাস্যোজ্জ্বলভাবে কথা বলতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘কাজিম বাবু’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রথমে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

তবে ভিডিওতে অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এ ছাড়া ভিডিওটির অডিও বন্ধ থাকায় সেখানে কী ধরনের কথোপকথন হয়েছে বা কী কারণে অর্থ লেনদেন হয়েছে, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে কমলেশ দাস বলেন, ‘ভিডিওটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই। অনেক ক্ষেত্রে ভাতা কিংবা রেশন-সংক্রান্ত অর্থও এভাবে গ্রহণ করা হয়।’

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি নজরে আসার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে থানা থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটি যদি প্রমাণিত হয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’