বগুড়ার আলোচিত ৩ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে এবার ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে ও পৈতৃক বাড়ির নামানুসারে নবগঠিত ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (২০ জুন) বিকালে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি এসেছে। এর আগে শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে জেলা প্রশাসককে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক জানান, শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় নবগঠিত ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারের সই করা চিঠি পেয়েছেন। এর আগে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ফোন করে নবগঠিত তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দেন।

শনিবার বিকাল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে পাওয়া চিঠিতে নবগঠিত ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় গণশুনানি করতে বলা হয়েছে।

চিঠি পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসন থেকে তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে গত ১১ ও ১৪ জুন জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সই করা প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। এতে শিবগঞ্জ উপজেলায় মীরবাড়ী ইউনিয়ন এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় সীমান্ত ইউনিয়ন, দিগন্ত ইউনিয়ন ও স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। নামগুলো প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক ও তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকায় নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে কৈফিয়ত দিতে হয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় ও হইচই শুরু হয়।

তবে নবগঠিত ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। এলাকার অনেকে বলছেন, তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে সবাই খুশি হয়েছেন। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর ভাতিজি স্বর্ণের নামে গঠিত ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন হলো না।

এদিকে ইউনিয়ন নিয়ে হইচই চলার মধ্যেই প্রতিমন্ত্রী ৫৩ বছরের প্রাচীন শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়।

এ অবস্থায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির নামে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের উদ্যোগ না নিতে শিক্ষা সচিবের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

শনিবার বিকালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তন হচ্ছে। তাই এখন তাকে নিয়ে আর কোনও আলোচনা-সমালোচনা নেই।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের প্রেস সচিব আতিকুর রহমান আতিক জানান, স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের জন্য অনেকে প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তাই এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণে আপত্তি জানিয়ে শিক্ষা সচিবকে ডিও লেটার দিয়েছেন।