দলের সিদ্ধান্তের প্রতি নেতাকর্মীদের আস্থা রাখার জন্য বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত দলের সাংগঠনিক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভা শেষে আনুমানিক সোয়া ৯টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাংগঠনিক সভা শেষে নেতৃবৃন্দ এবং হোটেলের বাইরে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরটি লালখান বাজার হয়ে উড়াল সড়ক এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সরাসরি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়।
এর আগে রাত ৮টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়ির বহর রেডিসন ব্লুর সামনে এসে পৌঁছে। এ সময় গেটের বাইরে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসটি ঘিরে স্লোগান দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বাসের ভেতর থেকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানাতে দেখা যায় তাকে।
ভিড়ের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে তারেক রহমানকে বহনকারী বাসটি হোটেলে প্রবেশ করে। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। আনুমানিক এক ঘণ্টা তিনি সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সাংগঠনিক সভাকে কেন্দ্র করে রবিবার বিকাল ৪টা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে রেডিসন ব্লু-মুখী তিনটি সড়কে হাজার হাজার নেতাকর্মী অবস্থান নিতে শুরু করেন।
এ সময় নগরের লালখান বাজার, কাজীর দেউড়ি ও সিআরবি সড়ক থেকে রেডিসন ব্লু-মুখী সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। চারপাশে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে হোটেলটি ঘিরে রাখা হয়।
বিএনপির সাংগঠনিক সভা থেকে বের হয়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সিদ্ধান্তের প্রতি নেতাকর্মীদের আস্থা রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে সামনের দিনগুলোতে দলকে এগিয়ে নেওয়া যায়। পাশাপাশি বলেছেন, দেশের উন্নয়নে ভূমিকা পালনের জন্য। আরও বলেছেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধার পরিচয় দিয়ে যাতে জনগণের আস্থা অর্জন করা যায়।’
আসলাম চৌধুরী আরও বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক সভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, যাতে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সামনে যেসব নির্বাচন আসবে সেগুলোতে যাতে বিপুল ভোটে জয়লাভ করা যায় এ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়ে গেছেন।’
রবিবারের নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, তারেক রহমান ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালীতে যান। সেখানে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরসহ কয়েকটি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে সেখান থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী এলাকায় যান।
রবিবার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নতুন ঘর ও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। পরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে আলেমদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায়ও বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ দফা দাবিদাওয়া তুলে ধরা হয়।
পরে বিকালে হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত শেষে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও রাখেন। সবশেষে রাত ৮টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরের রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রামের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন তিনি।









