রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন নেতাকর্মীরা। তারা অভিযোগ করেন, নবগঠিত কমিটিতে অছাত্র, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, ইভটিজিংকারী ও বিতর্কিত টিকটকারকে স্থান দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তারা কমিটিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং কলেজ ক্যাম্পাসে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধের দাবি জানান।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে সিটি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কলেজের বিভিন্ন ভবন ও প্রশাসনিক অংশ প্রদক্ষিণ শেষে ক্যাম্পাসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি গঠিত নতুন কমিটিকে ঘিরে ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত অনেককে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চেনেন না এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের কোনও দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল না।

বক্তারা অভিযোগ করেন, কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, নারী বিদ্বেষী আচরণ এবং শিক্ষার্থী পরিচয়ের বাইরে থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কিছু সদস্য বিবাহিত এবং সন্তানের বাবা হওয়ায় ছাত্ররাজনীতির প্রচলিত নীতিমালার সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেন তারা।

সমাবেশ থেকে মহানগর ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতাদের কাছে নবগঠিত কমিটির গঠন প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে জেল-জুলুম সহ্য করা ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানান বক্তারা।

বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, নবগঠিত কমিটির নেতাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাঠে থেকে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় তাদের পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তারা।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিশাল রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক তাফাকুল ইসলাম সৈকত, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান চন্দন এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ও সিটি কলেজের ছাত্রনেতা আন নাফি খান মনসহ অন্যান্য নেতাকর্মী।

এদিকে রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদলের দেয়াল লিখন ঢেকে দিয়ে নিজেদের ছবিসহ ব্যানার টানিয়েছেন সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান দুই নেতা। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, এমন কাণ্ড করে এ দুই নেতা হীনমন্যতার পরিচয় দিয়েছেন।

কলেজের মিলনায়তনের সামনে ১৯৯১ সালে প্রথম জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দেয়াল লিখনটি করেন তৎকালীন ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। সে সময় এই দেয়াল লিখনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি এবং তার কিছু বাণীও লেখা ছিল। পরবর্তীতে কয়েকবার সেটি নতুন করে লেখা হয়। কিন্তু কেউ ব্যক্তিগতভাবে ব্যানার লাগাননি।

কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, ১৯৯১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ওই দেয়াল লিখনে ছাত্রদলের নাম ফুটে থেকেছে। ২০২১ সালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেটি মুছে ফেলেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তারা আবার সেই দেয়াল লিখন করেন। সেই দেয়াল লিখনের ওপর ব্যক্তিগত ব্যানার টানানো হয়েছে। এতে সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ অন্তর ও নতুন কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি রাইনুদ্দিন রানার ছবি আছে। আগের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় প্রভাব দেখাতে অন্তর এটা করেছেন বলে তারা মনে করেন।

জানতে চাইলে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ছাত্রদলের এই ব্যানারটি কলেজে সংগঠনের ঐতিহ্য বহন করে। ছাত্র সংসদের নেতারা ১৯৯১ সালে প্রথম এই দেয়াল লিখন করেন। আওয়ামী লীগও এই দেয়াল লিখন মোছেনি। ২০২১ সালে ছাত্রলীগ এটা প্রতিহিংসাবশত মুছে ফেলে। তারপর আবার আমরা সেটা করেছি। তার ওপরে ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে আত্মপ্রচার করা দুঃখজনক। আমরা এটা দেখেছি।’

জানতে চাইলে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ অন্তর বলেন, ‘আমি এটা দেখেছি। কিন্তু এই ব্যানার আমি টানাইনি। ছোট ভাইয়েরা করেছে। করল তো কী সমস্যা? আগে ছাত্রদলের দেয়াল লিখন ছিল। আমরাও তো ছাত্রদলের শ্লোগান প্রচার করছি।’

রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন জানান, তিনি বিষয়টি জানতেন না। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে তারা পদক্ষেপ নেবেন।