বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর তীরে অভ্যন্তরীণ নদী বন্দর প্রতিষ্ঠার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে সারিয়াকান্দি নদী বন্দর এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের ধুনট নদী বন্দরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। এই খবরে দুই উপজেলার ব্যবসায়ী, নৌযান চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে নদী বন্দরের সীমানা নির্ধারণ করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পোর্ট অ্যাক্ট ১৯০৮-এর ধারা ৪-এর উপধারা (১)-এর দফা (ক) এবং উপধারা (২)-এর ক্ষমতাবলে দুটি নদী বন্দরের সীমানা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনের প্রয়োগ কার্যকর করা হয়েছে।
সারিয়াকান্দি নদী বন্দরের উত্তর সীমানা সদর ইউনিয়নের কালিতলা ঘাটের উত্তরে হাটশেরপুর ইউনিয়নের খুদ্দ বলাইল মৌজার দিঘাপাড়া ঘাট সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং পূর্ব দিকে যমুনা নদীর ওপারে কাজলা ইউনিয়নের বেড়া পাঁচবাড়িয়া মৌজার জামথল ঘাট পর্যন্ত এ বন্দরের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষিণ সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের চরকুমারপাড়া মৌজার মথুরাপাড়া ঘাট পর্যন্ত এবং যমুনার পূর্ব তীরে একই ইউনিয়নের নারাপালা মৌজার মূলবাড়ি এলাকা পর্যন্ত। এছাড়া নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে সাধারণ সর্বোচ্চ পানির সমতল থেকে ভূ-ভাগের দিকে ৫০ গজ পর্যন্ত এলাকা বন্দরের সীমানার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, দিঘাপাড়া, কালিতলা, মথুরাপাড়া (দেবডাঙ্গা), জামথল ও শোনপচা ঘাটসহ গেজেটভুক্ত সব খাল ও নৌঘাট সারিয়াকান্দি নদী বন্দরের আওতায় থাকবে। ভবিষ্যতে নৌপথ উন্নয়ন, জেটি নির্মাণ, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনে বন্দরের নির্ধারিত এলাকায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সরকার বিআইডব্লিউটিএকে সারিয়াকান্দি নদী বন্দরের সংরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে।
অন্যদিকে ধুনট নদী বন্দরের উত্তর সীমানা শুরু হয়েছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের মধুরাপাড়া ঘাট এলাকা থেকে এবং দক্ষিণ সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার তেকুরিয়া হাট সংলগ্ন যমুনা নদী হয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের চৌবার মৌজার বৈশাখীর চর পর্যন্ত। ধুনটের বন্দর হবে, শহরাবাড়ি ঘাট এলাকায়।
দুটি উপজেলায় একসঙ্গে দুটি নৌ বন্দর চালুর সিদ্ধান্তে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদত জামান, রবিউল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান জানান, নদী বন্দর চালুর ফলে সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় নৌযোগাযোগ আরও উন্নত হবে। কৃষি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী চলাচল, বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
ধুনট উপজেলা উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন, সোহেল রানা, ইমরান হোসেন জানান, ধুনট ও সারিয়াকান্দিকে নদী বন্দর ঘোষণা করায় তারা আনন্দিত। এটি দুই উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। বন্দর দুটি চালু হলে চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে। বিশেষ করে নৌপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন অনেক সহজ এবং সাশ্রয়ী হবে। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য তারা বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম ও বগুড়া-৫ ( শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত ৯ জুলাই নৌ বন্দরের প্রজ্ঞাপন হাতে পেয়েছি। বন্দর সংরক্ষণের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএকে দেওয়া হয়েছে। তবে কত দিনের মধ্যে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হবে, সে সম্পর্কে অফিশিয়ালি কোনও কাগজপত্র হাতে পাইনি।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারিভাবে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি হাতে পেয়েছি। তবে বন্দর সংরক্ষণের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএকে দেওয়ায় কতদিনের মধ্যে কার্যক্রম শুরু হবে, সে সম্পর্কে আমাদের এখনও কিছু জানানো হয়নি।