পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘অপরাধ দমনে দক্ষতার বিকল্প নেই পুলিশের। নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়াতে হবে পুলিশকে, প্রতিদিন আপডেট হতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ফরেনসিকের মতো জ্ঞান অর্জন করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির প্যারেড মাঠে ৪২তম ক্যাডেট এসআইদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে এসব কথা বলেন তিনি।
সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া, ফিশিং ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর মতো অপরাধ এখন পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘সব প্রকার ভয়ভীতি, অনুরাগ-অনুকম্পা ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে মামলা তদন্ত, সব শ্রেণিপেশার নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’
পুলিশের নবীন সদস্যদের উদ্দেশ্য করে আইজিপি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নিরপরাধ, বিপন্ন ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। পুলিশ সদস্যদের আচরণ দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রমাণ দিতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হবে বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।’
এর আগে আইজিপি প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এবারের কুচকাওয়াজে ১৯ জন নারী ও ৪৮১ জন পুরুষসহ মোট ৫০০ শিক্ষানবিশ ক্যাডেট এসআই অংশ নেন।
প্যারেড পরিদর্শন শেষে আইজিপি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীরা হলেন- ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর শাহরিয়ার হাসান সিজান, সাইফুল ইসলাম, তৌকির আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম এবং কামরান শেখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে ৪২তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচে প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন ৫২৭ জন। এর মধ্যে ২৭ বিভিন্ন কারণে বাদ পড়েছেন। এসব প্রশিক্ষণার্থী মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে দুই বছরের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।