রাজশাহীতে হঠাৎ জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় নগরী ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে পাম্প মালিকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের কোনও সংকট নেই। গুজবের কারণে অপ্রয়োজনীয় ভিড় সৃষ্টি করেছেন চালকরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেল সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অনেকেই আগাম ট্যাংকি ভর্তি করতে ছুটে যান পাম্পগুলোতে। রাজশাহী নগরী ও জেলার বিভিন্ন পাম্পগুলো ভিড় দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি। নগরীর তুলনায় গ্রামাঞ্চলের কয়েকটি পাম্পে ভিড় আরও বেশি ছিল। নগরীর নওদাপাড়ার জিএম, লতা, সরকার, ছন্দা, শালবাগানের আলম পাম্পেও বাইকারদের ভিড় ছিল।
হাবিব ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়ে যায়। সেখানে কেবল ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছিল। অন্যদিকে রুচিতা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য শতাধিক মোটরসাইকেল ও যানবাহন লাইনে অপেক্ষা করছে।
তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক সোহেল রানা বলেন, ‘শুনছি আবার আগের মতো তেলের সংকট হতে পারে। তাই আগে থেকেই ট্যাংকি ভর্তি করে রাখার জন্য পাম্পে এসেছি।’
আরেক চালক জাকারিয়া বলেন, ‘সন্ধ্যার পর ফেসবুকে তেল সংকটের খবর দেখেছি। এরপরই তেল নিতে চলে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে দেখি অনেক বড় লাইন। এখনও তেল পাইনি, অপেক্ষা করছি।’
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। হঠাৎ অতিরিক্ত ক্রেতা একসঙ্গে চলে আসায় কিছু পাম্পে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এটি কোনও প্রকৃত সংকটের কারণে নয়।
রাজশাহী পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মমিমুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তেলের কোনও সংকট নেই। গুজবের কারণে মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনতে পাম্পে ভিড় করছেন। এতে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হচ্ছে। আমরা সবার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, গুজবে কান না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করুন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না।’
এদিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের ভেরিফাইয়েড ফেসবুক পেজ থেকে জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজশাহী জেলায় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। কোনও ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ক্রয় বা মজুত না করার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল ক্রয় করুন এবং বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকল দফতরের সমন্বয়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করছে। কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বা মজুতদারির মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।