বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনা করায় আদালতে ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, আসামি অজ্ঞাতনামা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাস কামরায় ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী শহিদুল ইসলাম। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন।

তিনি বলেন, আদালতের ভেতর ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে।

এর আগে রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিচারক সমালোচনা করেছেন অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিচারকের খাস কামরা ভাঙচুর করা হয়। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা দাবি করেছেন, ওই দিন দুপুরে এজলাসে এক বিচারকের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করার প্রতিবাদে তারা আদালতের সামনে রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন। ভাঙচুরের সঙ্গে তারা জড়িত নন।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব বাবর আলী বলেন, ‘২০২৩ সালের একটি বিস্ফোরক মামলায় আমিসহ কয়েকজন আসামি আজ দুপুরে আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিনের আবেদন জানাই। বিচারক জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। ওই সময় এজলাসে বিচারক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি আগের সরকার ভালো ছিল বলে মন্তব্য করেন। তখন আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। এজলাস থেকে বের হয়ে আদালতের সামনে রাস্তায় কর্মীরা বিক্ষোভ করি আমরা। সেখানে আমি বক্তব্য দিই। তখন বিচারককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।’

বাবরের অভিযোগ, ‘জামিন মঞ্জুরের পর বিচারক আমাদের উদ্দেশে বলেন, দুই ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। আপনাদের সরকার। আগের সরকারই তো ভালো ছিল।’ তবে বিচারকের খাস কামরার দরজায় ভাঙচুরের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বাবর।

তিনি বলেন, ‘ভাঙচুরের সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আদালতের সিসি ক্যামেরায় দেখা যাবে কে বা কারা জড়িত। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা এতে জড়িত নই।’

তবে আদালতে উপস্থিত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিচারক কোনও সমালোচনা করেননি। তিনি (বিচারক) বলেছিলেন, “বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সব জায়গায় খারাপ। এখানে যারা আপনাদের লোক আছেন, তাদের একটু বলেন, আদালত চলাকালে যেন বিদ্যুৎ থাকে, সেই ব্যবস্থা যেন করেন।” তখন এজলাসের বাইরে থাকা স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ছেলেরা হট্টগোল শুরু করে। প্রথমে খাস কামরার দরজার কাচ ভাঙর করা হয়। পরে এজলাসের দরজার কাচও ভাঙা হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘আদালত থেকে বের হওয়ার পর নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত, তা আমার জানা নেই।’

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসিবের ভাষ্য, আদালত চত্বরে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওসব উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি আদালতের বিচারকের খাস কামরার সামনে মব সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা বিচারকের খাস কামরার দরজায় ভাঙচুরও করে। ঘটনাটি উদ্বেগজনক। এটি মব কালচারের অংশ।