মা ইলিশ ধরলে ৬ মাসের জেল

চাঁদপুর প্রতিনিধি
০১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:০৫ আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:০৫

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেছেন, ‘ইলিশ সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করলে সংশ্লিষ্ট জেলেদের কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের জেলে কার্ড বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নদীসংলগ্ন খালের মুখ বন্ধ করা এবং অভয়াশ্রম এলাকায় পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা মৎস্য দফতর আয়োজিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘যেসব জেলে নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে নামবেন না এবং মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকবেন, তাদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। চাঁদপুর জেলায় এ সহায়তা পাবেন ৪১ হাজার ৩৯০ জন জেলে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে না পড়েন, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে হবে। ইলিশের বাড়ি হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা জরুরি। টাস্কফোর্সের সঙ্গে অন্যান্য অংশীজনের সমন্বয় থাকলে অভিযান সফল হবে।’

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এ সময় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাকে কেন্দ্র করে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। এ অভয়াশ্রমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন বরফকল বন্ধ রাখা হবে। এ সময় নদীতে কোনও ধরনের ড্রেজার মেশিন চলতে দেওয়া হবে না। চাঁদপুরের বাইরে থেকে জেলেরা এসে যাতে নদীতে মাছ ধরতে না পারেন, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি থাকবে। গত বছরও বহিরাগত জেলেদের মাছ ধরা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এবারও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘অভয়াশ্রম এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ৮ থেকে ৯টি খালের মুখ বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে অবৈধভাবে মাছ ধরার সুযোগ কমবে এবং অভিযান বাস্তবায়ন সহজ হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জেলা পুলিশের উদ্যোগে চেকপোস্ট বসানো হবে। অভিযান পরিচালনার সময় কোনও ধরনের সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত থাকবে।’

সভায় মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে বক্তব্য দেন নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খায়রুল কবীর, কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার মুহতাছিন ইসলাম এবং সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক।

/এএম/ 
সম্পর্কিত
চাঁদপুর-বরিশালের ইলিশের নামে কোথাকার মাছ খাচ্ছেন জানেন?
হঠাৎ ভারত থেকে ইলিশ আমদানি কেন বন্ধ করলো বাংলাদেশ?
ইলিশের সংকট কোথায়
সর্বশেষ খবর
উমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের ঘটনায় যা বললো বিমান 
উমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের ঘটনায় যা বললো বিমান 
শারীরিক প্রতিবন্ধী গৃহকর্মীকে ধর্ষণের মামলায় সেই গৃহকর্তা কারাগারে 
শারীরিক প্রতিবন্ধী গৃহকর্মীকে ধর্ষণের মামলায় সেই গৃহকর্তা কারাগারে 
সংবিধান থেকে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিতে আইনি নোটিশ
সংবিধান থেকে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিতে আইনি নোটিশ
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি নিষিদ্ধ নয়, তবে চাপ কেন?
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি নিষিদ্ধ নয়, তবে চাপ কেন?
সর্বাধিক পঠিত
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা