এসএসসির ফরম পূরণে প্রতারণার শিকার হওয়া সেই আট শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন। সোমবার সকাল ১০টা থেকে তাদের পরীক্ষা শুরু হয়। এই আট জন নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, ওই কলেজের অফিস সহকারীর কাছে আট পরীক্ষার্থী ফরম পূরণে প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। এ জন্য তারা এবারের এসএসসিতে প্রথম দিনের বাংলা বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তবে সরকারি হস্তক্ষেপে সেই পরীক্ষাতে আজ রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে অংশ নিয়েছেন এসব পরীক্ষার্থী।
বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী।
পরীক্ষা দিতে পেরে পরীক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসিত হলেও নিজ জেলা নাটোরের বাইরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় কিছুটা ভোগান্তিও রয়েছে।
পরীক্ষার্থী ইসরাত জাহানের বাবা ইমামুল হক জানান, বাংলা দ্বিতীয় পত্র থেকে তার মেয়ে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিয়েছিলেন। সেসব পরীক্ষা নিজের এলাকাতেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আজকের পরীক্ষা বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের একটি কেন্দ্র হচ্ছে। এ জন্য মেয়েকে নিয়ে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছেন তিনি। এতে কিছুটা ভোগান্তি হলেও তিনি আনন্দিত।
আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান বলেন, প্রতারণার শিকার সেই আট শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি গত বুধবার শিক্ষা বোর্ড কলেজকে জানিয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। ভালো লাগছে, শিক্ষার্থীরা বাদ পড়া পরীক্ষাও দিতে পারছেন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন বলেন, শুধু আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট জন নন। বিভিন্ন জেলার ৪৬ পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের ওপর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, নানা কারণে রাজশাহী বিভাগের ৪৬ জন শিক্ষার্থী বাংলা, পদার্থবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যাসহ কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি এসব পরীক্ষার্থী। এ কারণে বোর্ডের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় একসঙ্গে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর আগে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে লালপুরের আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ নিয়ে জটিলতায় পড়েন। এ সময় ওই প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার জনপ্রতি ৩ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নিয়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফরম পূরণ না হওয়ায় পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাননি এসব শিক্ষার্থী। ফলে ৩ জুলাই শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তারা।
এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে আসে। এরপর বিশেষ ব্যবস্থায় ফরম পূরণ করে ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওনের প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। পরে তারা দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
সবশেষ সরকারি নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থায় আট শিক্ষার্থীর বাদ পরা পরীক্ষাও নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী আজ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করা অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।