২২ বছর ধরে ব্যবসা করছেন বৃদ্ধ, রাতের আঁধারে দোকানটি গুঁড়িয়ে দিলেন বিএনপি নেতা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় ২২ বছর ধরে ব্যবসা করে আসা এক বৃদ্ধের দোকানঘর রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। দোকানটি ভেঙে ফেলায় ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ওই দোকানি।

উপজেলার সলঙ্গা থানাধীন হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম হাসুর নেতৃত্বে গভীর রাতে হাটিকুমরুল ইউনিয়নের সিআরবিসি এলাকায় আব্দুল হাকিমের দোকানঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল হাকিম হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চড়িয়া কান্দিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২২ বছর ধরে সিআরবিসি এলাকায় সওজের জায়গায় ছোট একটি দোকান চালিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘদিনের দোকানটি ছিল তার একমাত্র আয়ের উৎস। তার ছয় সদস্যের পরিবার এই দোকানের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

আব্দুল হাকিমের ছেলে শামীম অভিযোগ করে বলেন, ‘রাতের আঁধারে বিএনপি নেতা হাসুর নেতৃত্বে আমাদের দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দোকানের ভেতরে কিছু মালামাল ছিল। ভাঙচুরের পর সেগুলোও আমরা পাইনি। এখন আমাদের পরিবারের আয়ের কোনও পথ নেই।’

ভুক্তভোগী দোকানি বলেন, ‘সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপি নেতা হাসু ওই জায়গাটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে গভীর রাতে আমার দোকানটি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। এতে আমি নিরুপায় হয়ে পড়েছি।

তবে দোকান উচ্ছেদের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম হাসু। তিনি বলেন, ‘আমি উচ্ছেদ করিনি। এলাকার উৎসুক জনতা উচ্ছেদ করেছে।’

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ বিষয়ে সলঙ্গা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী দোকানি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনও ব্যক্তির মালিকানাধীন জায়গা হলেও আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া দোকানঘর ভাঙচুরের ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। আর জায়গাটি সওজের হয়ে থাকলে সরকারি সম্পত্তি উচ্ছেদের এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাই ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।