কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েই হাসপাতালে এনসিপির সাবেক নেতা তানভীর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন।

এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও তানভীরের আইনজীবী ইজাজ আল ওয়াসী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কারামুক্তির পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তানভীরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্র জানায়, বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মনিপুরীপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে এক বিএনপি নেতা তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন।

একইদিন তাকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ১০ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তিন দিনের মঞ্জুর করেন।

পরে তিনি অসুস্থ হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তানভীরকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। পরে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তত্ত্বাবধানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এদিকে তানভীরের শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে জামিন শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার আবেদন করে আসামিপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নির্দেশের ধারাবাহিকতায় বিষয়টি উচ্চ আদালতে পৌঁছায়। পরে আসামিপক্ষের সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তানভীরের এক বছরের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ইজাজ আল ওয়াসী বলেন, গাজী সালাউদ্দিন তানভীর প্যানিক ডিজঅর্ডার, তীব্র মাথাব্যথা ও সার্ভাইক্যাল স্প্যাইলোসিসসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে গত ১৫ আগস্ট কারাগারে তিনি ব্রেন স্ট্রোক করেন। তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি চিকিৎসার তাগিদে আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।