বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিসহ ৪ নেতা রিমান্ডে

বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি সাজেদুর রহমান শাহিনসহ গ্রেফতার চার জনকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ডিবি পুলিশ আসামিদের আদালতে হাজির করে সদর একটি ছাত্র আন্দোলনের মামলায় রিমান্ড চাইলে আদালত মঞ্জুর করেন।

এর আগে বগুড়া ডিবি পুলিশ গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে কক্সবাজারের সদর থানা এলাকার রিসোর্ট থেকে তাদের গ্রেফতার করে। জেলা ডিবির ওসি ইকবাল বাহার এ তথ্য দিয়েছেন।

রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন- বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনভেটি গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান শাহিন (৫২), একই উপজেলার গন্ডগ্রাম মিয়াপাড়ার মৃত সৈয়দ আখতার হোসেনের ছেলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আবু জাফর সিদ্দিক রিপন (৬০), বগুড়া সদরের নারুলী পশ্চিমপাড়ার মৃত আবদুল বারিকের ছেলে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন নির্জন ওরফে ভাদু (২৯) ও কৈচড় গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী ফৌরদৌস হোসেন (২৬)।

বগুড়া ডিবির ওসি ইকবাল বাহার জানান, গ্রেফতার স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা গত ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা, সহিংসতা ও হত্যাসহ অসংখ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত। শাহিনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র, বিস্ফোরক, বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাসহ ১১টি এবং আসামি ভাদুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও বিস্ফোরক আইনের মামলাসহ ৯টির অধিক মামলা বিচারাধীন। অন্য দুই জনের বিরুদ্ধে একই রকম একাধিক মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে বগুড়া ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরুর পর মামলা হলে আসামিরা আত্মগোপন চলে যান। গোপনে খবর পেয়ে গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের সদর থানার কলাতলী ব্রিজ এলাকায় একটি রিসোর্ট ও আশপাশের এলাকা থেকে এই চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে আসামিদের আদালতে হাজির করার সময় উত্তেজিত জনতা তাদের উপর ডিম নিক্ষেপ করেন। রিমান্ড চাইলে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান চার জনের প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।