শিবিরের দাবিতে আপত্তি সালাহউদ্দিন আম্মারের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের জন্য হস্তান্তর করা অ্যাম্বুলেন্সটি সংগ্রহে নিজের উদ্যোগ ছিল বলে দাবি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। তবে অ্যাম্বুলেন্সটি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব দাবি করেন সালাহউদ্দিন আম্মার।

পোস্টে আম্মার দাবি করেন, গত ৬ আগস্ট জকসুকে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার সময় চিকিৎসক এস এম খালিদুজ্জামানের (ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী) সঙ্গে তার কথা হয়। তখন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি অ্যাম্বুলেন্স ও কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে ১৭ আগস্ট তাকে জানানো হয়, অ্যাম্বুলেন্সের অনুমোদন হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ২১ আগস্ট ঢাকায় চিকিৎসক খালিদুজ্জামানের সঙ্গে তার দেখা হয়। সেদিনই তিনি রাবির শিক্ষার্থীরা একটি অ্যাম্বুলেন্স পেতে যাচ্ছে বলে ফেসবুকে পোস্ট দেন। একই দিন রাকসুর গ্রুপে সদস্যদের বিষয়টি জানান এবং রাকসু ভিপিকেও জানান। তবে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য ভিপিকে অনুরোধ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

আম্মার উল্লেখ করেন, পরে ৭ সেপ্টেম্বর ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে তাদের সভাপতি অ্যাম্বুলেন্সটি ‘ম্যানেজ’ করেছেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর তিনি রাকসু ভিপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনও উত্তর পাননি বলে দাবি করেন।

অ্যাম্বুলেন্সে রাকসুর পরিবর্তে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে উপহার লেখা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আম্মার বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি শিক্ষার্থীরা পেয়েছেন— এটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি রাকসুর পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে উল্লেখ করা হলে তার আপত্তি থাকতো না।

অ্যাম্বুলেন্সটি সংগ্রহে ছাত্রশিবির বা অন্য কেউ আগে যোগাযোগ করেছে— এমন প্রমাণ দেখানোর চ্যালেঞ্জও দেন রাকসু জিএস। তার দাবি, এ বিষয়ে তার কাছে ‘রিয়েল টাইম কনভারসেশন’ রয়েছে।

পোস্টে আম্মার আরও দাবি করেন, পরে তিনি আবার একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ায় ওই অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ লাখ টাকার একটি জরুরি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

তিনি বলেন, ওই তহবিল থেকে শিক্ষার্থীদের জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

অ্যাম্বুলেন্সের মালিকানা বা অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।