আমির হামজার তোরণ নির্মাণের জন্য ডাল কর্তন করায় সমালোচনা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা আমির হামজার আগমন উপলক্ষে নির্মিত একটি তোরণের সৌন্দর্য বাড়াতে কেটে ফেলা হয়েছে সড়ক বিভাজকে থাকা প্রায় ১৫ বছরের পুরোনো একটি বকুলগাছের ডালপালা। পৌরসভার অনুমতি না নিয়েই গত বৃহস্পতিবার রাতে গাছটির ডালপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে শনিবার সকালে বিতর্কের মুখে তোরণটি সরিয়ে নেন আয়োজকেরা।

আগামী ৭ অক্টোবর নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে ইসলামি সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একটি ইসলামি মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজাকে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শহরের শান্তির মোড় এলাকার সড়ক বিভাজকে থাকা বকুলগাছটি দীর্ঘদিন ধরে পথচারী ও স্থানীয় মানুষের ছায়ার আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বিশেষ করে গরমের সময় পথচারী, ট্রাফিক পুলিশ ও ইজিবাইকের যাত্রীরা গাছটির নিচে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিতেন।

তবে তোরণ নির্মাণের সুবিধার্থে গাছটির ডালপালা কেটে ফেলার আগে পৌরসভার কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নুরুল আওলিয়া। তিনি বলেন, গাছটির মালিক পৌরসভা। এটি ছিল একটি ভালো ছায়াবৃক্ষ। একটি বিশেষ দলের লোকজনের উপস্থিতিতে গাছ কাটার কাজ হওয়ায় স্থানীয় দোকানিরাও প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

স্থানীয় এক দোকানি বলেন, গাছটির প্রায় সব ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছে। কাজটি দেখার পর খারাপ লাগলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেননি। দলবল নিয়ে এসে দোকানের ক্ষতি করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তারা চুপ ছিলেন বলে জানান তিনি।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেভ দ্য ন্যাচার’-এর প্রধান সমন্বয়ক রবিউল হাসান বলেন, ব্যক্তিগত গাছ কাটার ক্ষেত্রেও অনুমতির বিষয় রয়েছে। সেখানে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের তোরণ নির্মাণের জন্য শহরের ছায়া দেওয়া গাছের ডালপালা কেটে ফেলা গ্রহণযোগ্য নয়। বিতর্কের পর তোরণটি সরিয়ে নেওয়া হলেও গাছটির যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

গাছটির ডালপালা কাটার বিষয়টি স্বীকার করে ইসলামি সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও পৌর জামে মসজিদের ইমাম আসলাম কবীর বলেন, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীকে জানিয়ে ডেকোরেটরের লোকজন দিয়ে ডালপালা কাটানো হয়েছিল। তবে গাছটি এভাবে ন্যাড়া করে ফেলা হবে, তা তিনি জানতেন না। পরে বিষয়টি দেখে তারও খারাপ লেগেছে এবং এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

আমির হামজাকে মাহফিলে ইসলামি বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জানিয়ে আসলাম কবীর বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। মাহফিলে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

তোরণটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আসলাম কবীর বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে নানা সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হওয়ায় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার সকালে তোরণটি অপসারণ করা হয়েছে।

এদিকে জেলা জামায়াতের আমির আবু জার গিফারী বলেন, আমির হামজা অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হলেও মাহফিল আয়োজনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনও সম্পর্ক নেই। তবে যে কারণেই গাছটির ডালপালা কাটা হয়ে থাকুক, এভাবে গাছের ক্ষতি করা সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।