দুই বছরেও শেষ হয়নি ড্রেনের কাজ, মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রকৌশলীকে এমপির ধমক

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভার কালিবাড়ি থেকে পাটবন্দর পর্যন্ত সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ দুই বছরের বেশি সময়েও শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উল্লাপাড়া-সলঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, ধীরগতি এবং দীর্ঘদিন সড়ক খুঁড়ে রাখায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে প্রশ্ন করেন তিনি। পরে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মেহেদী হাসানকে ফোন করে ধমক দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন এমপি। সোমবার সকালে ড্রেন নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনের সময় মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান শ্যামলীপাড়া থেকে থানা মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ড্রেন নির্মাণের জন্য সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কোথাও স্তূপ করে রাখা হয়েছে মাটি ও বালু, আবার কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইট, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী। এতে সড়কের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে থানা মোড় থেকে শ্যামলীপাড়া পর্যন্ত অংশে দুর্ভোগ বেশি। এই অংশের দুই পাশে রয়েছে অসংখ্য দোকানপাট, বাজার, মসজিদ ও মন্দির। উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে যাতায়াতের জন্যও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন।

জানা গেছে, পরিদর্শনের সময় এমপি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রী নিয়ে ঠিকাদারের কাছে জানতে চান। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণ এবং দুই বছরের বেশি সময়েও কাজ শেষ না হওয়ার কারণ জানতে চান তিনি। একই সঙ্গে সড়ক খুঁড়ে রেখে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মেহেদী হাসানকে ফোন দেন। এ সময় এমপি বলেন, কাজের মান ভালো না, দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও কেন কাজ শেষ হচ্ছে না? রাস্তাটি খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখা হয়েছে, এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। মানুষের এই দুর্ভোগ আপনাদের চোখে পড়ছে না?

এ সময় তিনি দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় তাদের নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দোকানের সামনে ক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হওয়ায় যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।

জানা গেছে, কালিবাড়ি থেকে পাটবন্দর পর্যন্ত ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালে। প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৫ কোটি টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে জয়পুরহাটের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও স্থানীয়ভাবে একজন সাবঠিকাদার কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। মাঝখানে একবার কাজ বন্ধ থাকার পর পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সাবঠিকাদার শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়কের পাশে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি, গ্যাসলাইন ও পানির লাইন থাকায় কাজ করতে সময় বেশি লাগছে। পুরোনো ড্রেন ভেঙে নতুন ড্রেন নির্মাণ করায়ও সময় লাগছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন তারা। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, এসব সেবা সংস্থার লাইন ও বিদ্যুতের খুঁটির বিষয়টি কাজ শুরুর আগে সমন্বয় করা হয়নি কেন। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সমন্বয়হীনতা ও নির্মাণকাজের ধীরগতির দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হচ্ছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ইতিমধ্যে উপজেলা জামে মসজিদ পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।