রাবিতে হামলার আগে যা দেখেও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হামলার আগে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করেছিলেন ছাত্রদল নেতারা। তবে ওই সময় কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার পাশাপাশি পরে হামলার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেও ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রবিববার বিকেল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছিলেন রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি হাসিবুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় হাসিবুল ইসলাম ফেসবুকে হকিস্টিক হাতে ছবি তুলে পোস্ট করে নিজের অবস্থান জানান দেন। তবে তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা ব্যর্থ, আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলার আগে থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থানের অভিযোগের পরও যদি তখনই প্রশাসন ব্যবস্থা নিতো, তাহলে পরবর্তী হামলার ঘটনা এড়ানো যেত কি না এমন প্রশ্ন তুলছেন সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার এবং জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।

ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হলেও ১৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনও মামলা করা হয়নি।