মসজিদেই মুয়াজ্জিনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত, শেষ করতে পারলেন না আজানও

ফজরের আজান দেওয়ার সময় সৈয়দ ইসলাম (৫০) নামের এক মুয়াজ্জিনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পিঁপরুল ইউনিয়নের বাঙালপাড়া জামে মসজিদে সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। তবে কে বা কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আহত সৈয়দ ইসলাম উপজেলার চর বাঙালপাড়া এলাকার শাহাদ হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

মুয়াজ্জিনের স্বজনেরা জানান, সোমবার ভোরে ফজরের আজান দিচ্ছিলেন সৈয়দ ইসলাম। আজানের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ তার কণ্ঠ থেমে যায়। এ সময় মুসল্লিরা মসজিদের ভেতরে গিয়ে তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।

মুসল্লিরা জানান, আজান দেওয়ার সময় পেছন থেকে ধারালো ছুরি দিয়ে মুয়াজ্জিনের পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে কাতরাতে থাকেন। পরে মুসল্লিদের সহায়তায় পরিবারের লোকজন তাকে প্রথমে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণও হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিরুল ইসলাম জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে মুয়াজ্জিনকে ছুরিকাঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কে বা কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা তিনি ধারণা করতে পারছেন না।

নলডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনোয়ার জাহান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, খবর পেয়ে ভোরেই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। আহত ব্যক্তির পরিবারের লোকজন চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। স্থানীয় লোকজনও হামলাকারীকে চিহ্নিত করতে পারেননি। এ কারণে কাউকে গ্রেফতারও করা যায়নি। মামলা হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।