ছয় দিন আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম খাঁ (৩০) নামের এক যুবক। ছয়দিন পর একটি নির্মাণাধীন বাড়ির শৌচাগারে ঝলসানো অবস্থায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনা এখন পর্যন্ত থানায় কোনও মামলা দায়ের হয়নি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর খাসপাড়া এলাকার ডিশ ব্যবসায়ী মামুন শেখের নির্মাণাধীন বাড়ির শৌচাগার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শফিক ওই কালিকাপুর গ্রামের মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে রফিকুলের সঙ্গে মাদক ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল একই গ্রামের পিচ্চি শাজাহানের। তারই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার সকালে পিচ্চি শাজাহানের ছেলে মাদককারবারি সোহেল, সোহেলের মা সাজেদা বেগম সাজু, খালা মাজেদা বেগম মাজু, বোন সুমী খাতুন ও সোহেলের ছেলে সোহাগ বাড়িতে শফিককে না পেয়ে তার মা জাহেরা বেগমকে মারধর করেন। এরপর থেকে শফিককে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নিহত শফিকের চাচি মেহেরুন্নেছা জানান, শফিকুল নিখোঁজ হওয়ার পর মোবাইল ফোনটি মাদক কারবারি রাকিবের কাছে পাওয়া যায়। শফিককে খুন করা হয়েছে বলে তারা সন্দেহ করছেন। শৌচাগারের ভেতর শফিকুলের লাশের বুক ও মুখমণ্ডল ঝলসানো ছিল। অর্ধগলিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল মরদেহ থেকে।
পুলিশ বলছে, নিহত শফিকুলের লাশটি শৌচাগারের ভেতর খালি গায়ে উপুড় করে সোয়ানো ছিল। পরনে ফুলপ্যান্ট ও পায়ে জুতোও খোলা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, শফিকুলকে মারধর করে জোরপূর্বক বিষাক্ত কোনও পদার্থ খাওয়ানোর পর শ্বাসরোধে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। এমন অভিযোগ শফিকুলের পরিবারের সদস্যদের।
শফিকুলের মা জাহেরা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, তার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশটি শৌচাগারের মধ্যে গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সন্তান হত্যার বিচার চান তিনি।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, নিহত শফিকুলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।