এ নিয়ে ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. তামজীদ-উল-হক বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সবার মত নিয়ে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার দাবিটি দেওয়া হয়েছিল। আমরা এটাকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি না। আমাদের প্রধান দাবি, হাসপাতালের নিরাপত্তায় বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। তবে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এফ এম রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের ভেতরে ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে।
রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী শাহেদ বলেন, ইন্টার্নি চিকিৎসকরা মানুষের সেবা করেন, আর সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ জনগণের কাছে পৌঁছে দেন। দুইটি পেশায় গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানানো ধৃষ্টতা।
রামেক হাসপাতাল পরিচালকের কাছে দেওয়া ইন্টার্নিদের লিখিত দাবিতে বলা হয়, তিনদিনের মধ্যে চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণ এবং আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। চিকিৎসকদের গায়ে হাত তোলার অপরাধে দোষী পুলিশ কর্মকর্তাকে বহিস্কার করতে হবে। এছাড়া রোগীর যেসব স্বজনেরা চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন তাদের গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের পঞ্চম দাবি হচ্ছে, হাসপাতালে বহিরাগত দালাল, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের অবাধ বিচরণ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে এখানে তারা সাংবাদিক প্রবেশের বিধি-নিষেধের দাবিও সংযোজন করেন। এছাড়া কোনো রোগীর স্বজন চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালালে ওই স্বজনের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তারও একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা চায় ইন্টার্নি পরিষদ।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রামেক চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনালী ব্যাংকের রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর শাখার কর্মকর্তা সিবিএ নেতা ও রাজশাহী মহানগর শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন খানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রোগীর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা এক ইন্টার্নি চিকিৎসককে মারধর করেন। এর প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরে গত রোববার তারা পাঁচ দফা দাবি দিয়ে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কর্মবিরতি স্থগিত করেন। এ সময়ের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না হলে ২১ এপ্রিল থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আরও পড়তে পারেন: গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা, যুবলীগ কর্মীকে গণপিটুনি
/এমও/