রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এই ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় কারিগরি পরীক্ষা। এসব পরীক্ষার বিস্তারিত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান শনিবার জানান, নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই ইউনিটটি ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করবে। রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে এই অগ্রগতির বিষয়টি মন্ত্রণালয়কেও জানানো হয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে বায়েরার অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা বাড়ানো হবে। আশা করা হচ্ছে, উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে। সেই হিসেবে বছরের শেষ নাগাদ কমপক্ষে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ক্ষেত্রে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, রোসাটমের অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট বিভাগের মাধ্যমে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে জেনারেশন ৩+ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি স্থাপন করা হচ্ছে, যেখান থেকে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে বর্তমানে এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।