সেই এমপির ছড়িয়ে পড়া আলোচিত ভিডিও নিয়ে যা বললো উপজেলা বিএনপি

নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নানা ধরনের সমালোচনা শুরু হয়। তবে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দাবি করেছে গুরুদাসপুর বিএনপি।

এর আগে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় এমপি আবদুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে সোমবার (২৬ অক্টোবর) আটকের পর মঙ্গলবার বিকালে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এসব ঘটনায় এমপি ও তার পরিবারের লোকজন কোণঠাসা হয়ে পড়েন। ওই ঘটনার পরদিন বুধবার সকালে এমপির একটি অশ্লীল ভিডিও সামনে আসে।

ওই ভিডিওটি ভূয়া দাবি করে গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় বুধবার বিকালে। উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজার এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী লিখিত বক্তব্য পড়েন।

বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের একটি ‘অন্তরঙ্গ মুহূর্তের’ ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত ব্যক্তিগতভাবে এমপির মান ক্ষুন্ন করতেই ‘আশফাক আহমেদ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ওই ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে এক নারীর কণ্ঠও শোনা গেছে। মনহানিকর ওই ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তারা ওই ভিডিওটি ছড়ানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, একইসঙ্গে ভুয়া ওই ভিডিওটি যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন সেসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা। 

এ সময় সাংবাদিক সম্মেলনে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৯ মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এমপি আবদুল আজিজ এক নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছেন। ওই কথোপকথনের মধ্যে যৌন সংক্রান্ত স্পর্শকাতর অনেক বাক্য রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এমপির ছেলে মিন্টুকে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এরপর মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে গুরুদাসপুরের শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে শাকিলের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শাকিল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্টুর পাশাপাশি আমেরিকা প্রবাসী রাসেলেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এমন সন্দেহে জানাজায় অংশ নেওয়া উৎসুক জনতা দোকানপাট ভাঙচুরের পর লুটপাট করেন। এই ঘটনাতে থানায় কোনও মামলা হয়নি।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‌‘এমপি আজিজের নৈতিক স্খলন সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি জেলা বিএনপির নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই অশ্লীল ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। আগামী শুক্রবার জেলা বিএনপির জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। আজিজের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি যদি সঠিক হয় তবে শুক্রবার জেলা বিএনপি'র সভায় গঠণতান্ত্রিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপির এক নেতা এমপি আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে নিজের ভাতিজার স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগও করেন। তিনি বলেন, এমপির এমন নৈতিক স্খলন নিয়ে বিএনপি স্থানীয় ত্যাগী নেতারা অব্যাহতভাবে ফেসবুকে পোস্ট করছেন। দলের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে। তার মতে ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করে এমপি আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।