সংসার, সন্তান সামলানোর পাশাপাশি নিজের পড়াশোনার স্বপ্নটাও বাঁচিয়ে রেখেছিলেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার গৃহবধূ রীতি খাতুন (৩০)। স্বামীর উৎসাহে দীর্ঘ ১৫ বছর বিরতির পর আবারও শিক্ষাজীবনে ফেরেন তিনি। সেই অধ্যবসায়ের ফলও পেয়েছেন। ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি।
রীতি খাতুন উপজেলার নসিরপুর গ্রামের আব্দুল আলিম মণ্ডল বাবুর স্ত্রী। ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখা থেকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ সাফল্য অর্জন করেন তিনি।
রীতির শিক্ষাজীবনের শুরুটা অবশ্য এতটা দীর্ঘ বিরতির ছিল না। ২০১০ সালে মোলামগাড়িহাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। পরের বছর বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় তাকে। ধীরে ধীরে পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যান। বর্তমানে ১১ বছর বয়সী এক মেয়ের মা তিনি। তবে মনের মধ্যে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা রয়ে গিয়েছিল।
একপর্যায়ে স্ত্রীর সেই আগ্রহকে গুরুত্ব দেন স্বামী আব্দুল আলিম মণ্ডল বাবু। তার অনুপ্রেরণায় ২০২৪ সালে এসএসসি পাসের প্রায় ১৪ বছর পর কলেজে ভর্তি হন রীতি। এরপর সংসারের দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে শুরু করেন পরীক্ষার প্রস্তুতি।
পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথটা সহজ ছিল না। সংসারের দায়িত্ব সামলে নিয়মিত পড়ার সময় বের করা, ক্লাস করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সবকিছুই ছিল চ্যালেঞ্জের। এর মধ্যে প্রতিবেশীদের উপহাসও শুনতে হয়েছে তাকে। তবে এসব বাধা তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। স্বামী ও শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে গেছেন নিজের লক্ষ্যে।
রীতি খাতুন বলেন, স্বামীর সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা ছাড়া এই বয়সে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করা সম্ভব হতো না। সংসারের কাজ সামলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে। ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
স্ত্রীকে পড়াশোনায় উৎসাহিত করার বিষয়ে আব্দুল আলিম মণ্ডল বাবু বলেন, স্ত্রীর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে তাকে কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন। তার এই সাফল্যে পরিবারের সবাই আনন্দিত।
ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সায়ফুল ইসলাম বলেন, সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রীতির এমন ফলাফল সত্যিই প্রশংসনীয়। তার অধ্যবসায় ও সাফল্য অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।