গ্রেনেড বিস্ফোরণে দুই জঙ্গি নিহতের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন গ্রেফতারকৃতরা

বগুড়াবগুড়ার শেরপুরের জুয়ানপুর কুঠিরভিটা গ্রামে একটি বাড়িতে গ্রেনেড তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুই জঙ্গি নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার সাতজন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, আগে গ্রেফতার ছয়জনের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার রাতে গৃহবধূ জান্নাতুন ফেরদৌসকে গ্রেফতার করা হয়। তারা বগুড়া জেলহাজতে আছেন। জিজ্ঞাসবাদে তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন। তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। প্রয়োজনে তাদের রিমান্ডে নেওয়া হবে।
এদিকে, গত ২৩ দিন ধরে ওই ঘটনায় নিহত এক জঙ্গির লাশ মর্গে রয়েছে। তাকে কেউ শনাক্ত করতে আসেনি।
গ্রেফতার সাতজন হলেন বগুড়ার জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কানুপুর গ্রামের ওষুধ বিক্রেতা তারেক হোসেনের স্ত্রী জান্নাতুন ফেরদৌস, নিহত জঙ্গি তরিকুল ইসলামের তিন ভাই সিরাজগঞ্জ সদরের জামুয়া গ্রামের মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে ইসলামী ব্যাংক সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া শাখার সিনিয়র অফিসার সানাউল্লাহ, জামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিয়াকত আলী ও কৃষক বরকত উল্লাহ, তাদের ভাগ্নে সলঙ্গা উপজেলার রায়হান আলী এবং বগুড়ার শেরপুরের জুয়ানপুর কুঠিরভিটা গ্রামের থাই অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী মাহবুব আলম ও তার মেয়ে একই এলাকার হেদায়েত হোসেনের স্ত্রী সুমাইয়া আকতার পলি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মিজানুর রহমান আরও জানান, কথিত ভাড়াটিয়া মিজানের সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিহতের একজন জঙ্গি তরিকুল ইসলাম হলেও অপরজনের পরিচয় গত ২৩ দিনেও পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তা শিগগিরই মিডিয়াকে ভাল তথ্য দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, সাভারের থাই অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী মাহবুব আলম তার বগুড়ার শেরপুরের জুয়ানপুর কুঠিরভিটা গ্রামের বাড়িটি কথিত অটোরিকশা চালক মিজানকে ভাড়া দেন। তার সঙ্গে স্ত্রী শাপলা, মাদ্রাসা পড়–য়া মেয়ে ও কথিত ভগ্নিপতি তরিকুল ইসলাম (নিহত জঙ্গি) থাকতেন। গত ১ এপ্রিল মিজান তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নওগাঁয় গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান। ওইদিন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি (ফ্রেঞ্চকাট দাঁড়ি) ওই বাড়িতে আসেন। ৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে গ্রেনেড তৈরির সময় বিস্ফোরণে গুরুতর আহত তরিকুল ইসলাম ও অজ্ঞাত ওই যুবক হাসপাতালে মারা যান।

আরও পড়ুন:
331f14b433227afe04df823e9ab27832-571f686645386যবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ

পরদিন সকালে কাউন্টার টেরিজম ট্রান্স ন্যাশনাল বিভাগের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা বাড়ি থেকে ২০টি তাজা গ্রেনেড, গ্রেনেড তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম, চারটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগজিন, ৪০ রাউন্ড গুলি, একটি পাসপোর্ট, একটি মোটরসাইকেল, একটি বাইসাইকেল, ব্যাংকের কয়েকটি চেক বই ও দলিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র জব্দ করেন। এ ঘটনায় শেরপুর থানার এসআই বুলবুল ইসলাম অস্ত্র, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিহত দুই জঙ্গি, কথিত ভাড়াটিয়া মিজানের নামে তিনটি মামলা করেন। এজাহারে অজ্ঞাত অনেককে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে স্বজনরা জেএমবির সদস্য তরিকুল ইসলামের লাশ শনাক্ত করেন।

/বিটি/