বগুড়ার শিবগঞ্জের চককানু গ্রামে মসজিদ-ই-আল মোস্তফা নামক শিয়া মসজিদে হামলার পর পাঁচ মাস পেরিয়েছে। কিন্তু তদন্তে দৃশ্যমান তেমন কোনও অগ্রগতি নেই। মত পার্থক্যের কারণে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্যরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালায়। তিনজন এতে অংশ নিয়েছিলেন। ইয়াসিন আলী নামে এক জঙ্গি আদালতে এ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন-পুলিশ এটুকুই তথ্য জানতে পেরেছে। তবে পুলিশের দাবি, তারা শিগগিরই এ হামলার বিষয়ে ভালো তথ্য দিতে পারবে ।
হামালার পর মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে। এ হামলার রহস্য উদঘাটন, মূল হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এখানকার শিয়া অনুসারীরা।
পুলিশ জানায়, গতবছর ২৬ নভেম্বর এশার নামাজের পর দুর্বৃত্তরা বাথরুমে যাওয়ার নাম করে শিয়া মসজিদে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন (৭০) মারা যান। আহত হন ইমামসহ তিনজন। ওই রাতেই মসজিদের কোষাধ্যক্ষ সোনা মিয়া অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে ৩ ডাকাত নিহত
এ হত্যায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ জেএমবি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও মাদ্রাসা ছাত্র জুয়েল মিয়া ও অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুল আলমকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোনও তথ্য পাননি।
শিয়াদের সংগঠন বাংলাদেশ ইমামিয়া জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবু জাফর মণ্ডল জানান, তার অনুপ্রেরণায় অন্তত ৪৫০ মানুষ সুন্নী থেকে শিয়া মতালম্বী হয়েছেন। তাদের সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের কোনও বিরোধ ছিল না। তারপরও এমন ঘটনা ঘটেছে।
তিনি জানান, এ হামলার পর এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করেছিল। তখন মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকলেও এখন অনেক কমে গেছে। মূল হামলাকারীরা আজও ধরা পড়েনি। এর আগে যে ক’জন গ্রেফতার হয়েছিলেন, তার অনেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। এজন্য শিয়া মতালম্বীরা আতঙ্কিত। দু’দিন আগে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় যে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার মধ্যে ৫ জন জেএমবির সঙ্গে জড়িত। হামলার কারণ জানা গেলেও মূল হত্যাকারীদের ধরা যায়নি। মামলার তদন্ত ও ঘাতকদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। শিগগিরই ভালো কোনও তথ্য মিডিয়াকে দেওয়া সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, এলাকায় ক্যাম্প দেওয়া সম্ভব না হলেও তারা নিয়মিত খোঁজখবর নেন এবং রাতে টহল পুলিশ যায়। তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
সম্প্রতি বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, জেএমবির সদস্যরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শিয়া মসজিদে হামলায় অংশ নিয়েছিল। গত ৮ নভেম্বর ডিবি পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের আঞ্চলিক কমান্ডার মেহেদী হাসান দুই সঙ্গীসহ গ্রেফতার হন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াসিন আলী, আবদুল বাসেদ এবং এমদাদুল হককে গ্রেফতার করা হয়। ইয়াসিন ১২ ডিসেম্বর বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌস ওয়াহিদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশের দাবি, ইয়াসিন আলী শিয়া মসজিদে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। হামলার কারণ, হামলাকারীদের সংখ্যা ও নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
/এসটি/এপিএইচ/