লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী (বর্তমান চেয়ারম্যান) গোলাম মোস্তফা স্বপন যেমন খুশি তেমন ভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরজমিনে দেখা যায়,নির্বাচন কমিশনের স্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও গোকুন্ডা ইউনিয়নের অলি-গলির দেয়াল ও বেড়ায় গোলাম মোস্তফা স্বপনের নৌকা প্রতীকের পোস্টার লাগানো। তার সমর্থকরা কোনও ধরণের নিষেধাজ্ঞা মানছে না।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ কে এম জাহেরুল ইসলাম দুলু বলেন, প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ও কৌশলে হুমকি-ধামকি দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা অজানা আতঙ্কে রয়েছে। হারি বা জিতি তা মেনে নিয়েই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছিলাম। তবে স্থানীয় প্রশাসন সেই প্রত্যাশিত লেবেল প্লেয়েয়িংয়ের মাঠ তৈরি করতে পারছে না।
একই অভিযোগ আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের আব্দুর রশিদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকেরও।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন পেশাজীবী ও শতাধিক সাধারণ ভোটার সঙ্গে কথা বললে তারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, স্বপন চেয়ারম্যানের অত্যাচারে সাধারণ মানুষসহ আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা অতিষ্ঠ। এলাকায় জনসমর্থন হারানোর কারণে তিনি এখন ভোটারদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।
আরও পড়তে পারেন : যে পথে মন্ত্রী হন বদর নেতা
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোস্তফা স্বপন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হারজিত হতেই পারে। আমার কোনও নেতাকর্মী-সমর্থক হুমকি-ধামকির সঙ্গে জড়িত নয়। জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি-জামায়াত জোট প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী গোকুন্ডার সুন্দর নির্বাচনি পরিবেশকে অশান্ত করার জন্য পাঁয়তারা করছে।
তবে নির্বাচন বিধি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পোস্টার লাগানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট রির্টানিং অফিসার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে আমরা গোকুন্ডাসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের ব্যাপারে কিছু অভিযোগ পেয়েছি। সেগুলোর ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘লালমনিরহাট সদর ও আদিতমারী উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের নির্বাচনি পরিবেশ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক এবং শান্ত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক এলাকায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, নির্দিষ্ট কোনো এলাকার কথা বলতে চাই না। আমি সভা করে প্রত্যেক প্রার্থীকে নির্বাচনি কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে বলেছি। যদি কেউ এর ব্যাত্যয় ঘটান, তাহলে তিনি তার ফল ভোগ করবেন। প্রশাসনের প্রত্যেক কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং অফিসারদের নির্বাচন কমিশন থেকে সেইভাবে নির্দেশ দেওয়া আছে।
/জেবি/