হিলি বন্দর : দশ মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ১৮ কোটি টাকা

২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলিতে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ১৮ কোটি ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এ সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও আদায় হয়েছে ৬১ কোটি ৩১ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

হিলি শুল্ক স্টেশন
হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, আমদানি কম হওয়ায় এবং লক্ষ্যমাত্রা পুনঃনির্ধারণ করায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ট্রাকের চাকা অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ ও পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে শুল্কায়ন করাসহ নানা জটিলতায় আমদানি কমেছে। আর এটিকেই স্থলবন্দরের রাজস্ব আদায় কম হওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা।
শুল্কস্টেশনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ তাহের উল আলম চৌধুরী বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে অধিক শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি কমায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।  তবে সম্প্রতি এ বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব আদায়ও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

আর হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো.হারুন উর রশীদ বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে এনবিআর গাড়ির চাকা অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করায়  গত দু’বছর ধরে সব ধরনের ফল আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে এ বন্দরের রাজস্ব আদায় কমেছে।

হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় চলতি  অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে ৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে চলতি বছরের মার্চে এ লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১১০ কোটি টাকা পুনঃনির্ধারণ করে এনবিআর।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্থলবন্দরের উচ্চতর রেফারেন্স মূল্য বিবেচনায় শুল্কনির্ধারণের ফলে লোকসান গুনতে হয় আমদানিকারকদের। ফলে ব্যবসায়ীরা এ বন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। এছাড়া পরীক্ষণ, শুল্কায়নে দীর্ঘসূত্রিতা, কাস্টমস কর্মকর্তাদের  হয়রানির কারণেও এ বন্দর দিয়ে অধিক শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি কমেছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে এ স্থলবন্দর থেকে ১ কোটি ১৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকার রাজস্বের বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, আগস্টে ৫ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার টাকা, সেপ্টেম্বরে  ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, অক্টোবরে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকার বিপরীতে আহরণ আদায় হয়েছে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, নভেম্বরে ৯ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে  ৯ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার টাকা, ডিসেম্বরে ২ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

জানুয়ারিতে ৯ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৪ কোটি ২৭ লাখ ২ হাজার টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪ কোটি ২৭ লাখ ২ হাজার টাকা, মার্চে ১৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা এবং এপ্রিলে ১৫ কোটি ১৬ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ৬ হাজার টাকা।

গত অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে ১৫৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় ৩০ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ফলে ঘাটতি ছিল ১২৬ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র (2)পঞ্চগড়ে ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

/এসএনএইচ/এইচকে/