সেই শিশু গৃহকর্মী তাজিনের পাশে দাঁড়ালেন পুলিশ সুপার

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের শিশু গৃহকর্মী তাজিন আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম। বর্তমানে শিশু তাজিন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর কেবিনের ২৩ নম্বর বেডে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিকাশ মজুমদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।Lalmonirhat-News-Picture

এর আগে, গত ১৪ জুন বাংলা ট্রিবিউনে তাজিন সম্পর্কিত ‘প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা, নির্মম নির্যাতনে স্মৃতিভ্রষ্ট শিশু তাজিন’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাজিন উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের ৬/বি রোডের ৬ নম্বর বাসায় মোস্তাফিজুর রহমান শিমুল ও তার স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন এমির বাসার গৃহপরিচারিকা ছিলেন। তাকে টানা গত ৬ মাস ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে লালমনিরহাট  পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম গৃহকর্মী তাজিনের শারীরিক খোঁজখবর নেন। তিনি তাজিনের চিকিৎসার জন্য তার মা আয়েশা বেগমের হাতে নগদ বিশ হাজার টাকা তুলে দেন। এসময় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক মিথুন, তাজিনের মামা সফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেনসহ প্রমুখ।

পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম শিশু তাজিনের নির্যাতনে ক্ষোভপ্রকাশ করে মামলার এজাহারে উল্লেখিত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করবেন বলে তাজিনের মা আয়শা বেগমকে প্রতিশ্রুতি দেন।

এছাড়াও নির্যাতিত গৃহপরিচারিকা শিশু তাজিনের খবর প্রকাশের পর উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন পাটগ্রামের সহকারী শিক্ষিকা বেনু বেগম বিজলী, সহকারী শিক্ষিকা ইকবাল রাবেয়া লারা মনি, তরুণ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক মিথুন ও হাতীবান্ধা উপজেলার সাফিউল ইসলাম। তাদের সঙ্গে পাটগ্রাম থানার ওসি অবনী শংকর কর, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী সাহায্যের হাত বাড়ান।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৫ সালের ২০ নভেম্বর সকালে তাজিনকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের টংটিংডাঙ্গার বাড়ি থেকে নিলুফা ইয়াসমিন এমির মা ছালেহা খাতুন হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্বসিন্দুর্ণার নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। ওইদিন বিকেলেই ঢাকাগামী বাসযোগে তাজিনকে এমির ঢাকার বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় তাজিনের উপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন।

পরে নিলুফা ইয়াসমিন এমির স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান শিমুলের কর্মচারী রাজুর মাধ্যমে গত ১০ জুন ঢাকা থেকে হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুণায় শাশুড়ি সালেহা বেগমের কাছে পাঠায়। সালেহা বেগম তার ছেলে শরিফুল ইসলাম রুবেল ও রাজুকে দিয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পালিয়ে যান। এরপর তাজিনের মা ১৩ জুন খবর পেয়ে হাতীবান্ধা থানায় যোগাযোগ করেন। তখন থানার ওসি আব্দুল মতিন প্রধান পাটগ্রাম থানার ওসি অবনী শংকর করকে বিষয়টি অবহিত করেন। ওইদিন তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলামের সহযোগিতায় পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় তাজিনের মা বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে এ মামলায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় রমজানেও চলছে জুয়ার আসর 

/এমও/টিএন/আপ-এআর/