পেরিয়ে গেছে ১৬ দিন, নিজ নিজ দাবিতে অনড় প্রশাসন ও সাঁওতালরা





গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে সাঁওতাল বসতি উচ্ছেদের ঘটনায় উদ্ভূত থমথমে পরিস্থিতির ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও, প্রশাসন ও সাঁওতালদের নিজ নিজ দাবিতে অনড় থাকায় অবস্থার কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। ফলে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতাল পরিবারগুলোকে সোমবারও মাদারপুর মিশন গির্জা সংলগ্ন খোলা মাঠ, গাছ-গাছালির আড়ালে ও পরিত্যক্ত ঘরের বারান্দায় মানবেতর জীবন যাপন করতে দেখা গেছে।Gaibandha-PHOTO-02
চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি সাঁওতালদের ফেরত পাবার কোনও সুযোগ নেই বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানান, সরকার সাঁওতালদের ক্ষতিপূরণ দিয়েই জমিগুলো অধিগ্রহণ করেছিল। আদিবাসীদের পক্ষে আদালতের নির্দেশনা পেলেই শুধুমাত্র তাদের দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব। তবে সাঁওতালরা রাজি হলে কাটাবাড়ি ইউনিয়নের ১৪.২৬ একর জায়গায় আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় তাদের পুনর্বাসিত করা যাবে। রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ এ ঘোষণা দেন।
এমন ঘোষণা সাঁওতালদের আরো ক্ষুব্ধ করে তুলেছে বলে জানা গেছে। এক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেণ বলেন, জেলা প্রশাসক আমাদের দাবির প্রতি অবমাননাকর উক্তি করেছেন। আমরা বাপ দাদার জমি ফেরত পাবার জন্য জীবন দিয়েছি। সেই জমি আমাদের ফেরত দিতে হবে। যেহেতু চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণের চুক্তি ভঙ্গ করেছে, তাই আমরা আমাদের পূর্বপুরুষের জমি ফেরত চাই।
Gaibandha-PHOTO-03
তিনি আরও বলেন জেলা প্রশাসক বলেছেন মাত্র ৩১ জন ভূমিহীন সাঁওতাল আছে। এটিও একটি চরম অসত্য কথা। লুকোচুরির করার কিছুই নাই। এটা আজ সবার জানা কয়টি সাঁওতাল পরিবারকে ওই জমির বসতি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আর কতজন খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সদস্য ও সাঁওতাল পল্লী মাদারপুরের গ্রাম প্রধান বার্ণাবাস টুডু জেলা প্রশাসকের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের করুণা চাই না। আমরা আমাদের বাপ দাদার জমি ফেরত চাই। আমরা কোনও পুনর্বাসন কেন্দ্রে যাব না।
ধান কাটার প্রস্তাব নিয়ে সাঁওতাল পল্লীতে ইউএনও ও মিল কর্তৃপক্ষ
এদিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান, রংপুর চিনিকলের এমডি আব্দুল আউয়াল ও ওসি সুব্রত কুমার সরকার গতকাল সোমবার দুপুরে মাদারপুর গ্রামে গিয়ে সাঁওতালদের নেতাদের সাথে সাক্ষাত করেন। তারা মিলের জমিতে সাঁওতালদের রোপনকৃত ধান কেটে দেওয়ার জন্য তাদের কাছে তালিকা চান। কিন্তু সাঁওতাল নেতারা তাদের জমির ধান তারা নিজেরাই কাটবেন বলে জানান।
এ প্রসঙ্গে ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সদস্য ও সাঁওতাল পল্লী মাদারপুরের গ্রাম প্রধান বার্নাবাস টুডু জানান, মিল কতৃপক্ষ ধান কেটে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা জানিয়ে দিয়েছি নিজেরাই ওই জমির ধান কাটবো। এ জন্য দুইদিন সময় নেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতার আরও চার
অপরদিকে সাঁওতালদের উপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং গুলি করে হত্যা ঘটনার মামলায় সোমবার ভোরে আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন উপজেলার তরফকামাল গ্রামের কাজেম উদ্দিনের ছেলে শায়েদ আলী (৩৫), একই গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে মোখলেছুর রহমান (২৮), সাহেবগঞ্জ গ্রামের মৃত আসমান আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫) ও মাদারপুর গ্রামের দারাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মান্নান (৫৪)।
/ এইচকে/আপ-এআর/