কলকাতায় আত্মগোপনে কাদের খাঁনের সহযোগী চন্দন

চন্দন কুমার সরকারগাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খাঁন  এখন কারাগারে। তার প্রধান সহযোগী হিসেবে পরিচিত চন্দন কুমার সরকারের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত দফতর সম্পাদক চন্দন ভারতের কলকাতায় আত্মগোপনে রয়েছেন।
সুন্দরগঞ্জের সাবেক এমপি কাদের খাঁনের জব্দ করা মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে চন্দন সরকারের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিয়ার রহমান।
আতিয়ার রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লিটন হত্যার পর থেকে পুলিশ চন্দনকে নজরদারিতে রেখেছিল। চন্দন তা আঁচ করতে পেরে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে কলকাতায় পালিয়ে যান। তবে কলকাতা থেকে তিনি নিয়মিত সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধার কয়েকজন সাংবাদিক এবং তার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখছেন। লিটন হত্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতেই তিনি যোগাযোগ করছেন। কাদের খাঁন গ্রেফতারের আগেও যোগাযোগ করেছিলেন তিনি।’ তিনি আরও জানান, চন্দনের বাড়িতে তালা ঝুলছে। সেখানে এখন কেউ নেই। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর এমপি লিটন হত্যায় কাদের ও চার কিলারের প্রধান সোর্স হিসেবে কাজ করেছিলেন চন্দন। গ্রেফতারের পর কাদের খাঁন এবং চার কিলারও আদালতে এ কথা জানিয়েছেন।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে চার কিলার মেহেদী, হান্নান, রানা ও শাহীন জানান, চন্দনের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। লিটন হত্যার পরিকল্পনা কাদের খাঁনের সঙ্গে মিলে করেছিলেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের দিন লিটনের বাড়িতে অবস্থান এবং অন্যান্য তথ্য মোবাইল ফোনে তাদের জানান চন্দন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যা পরিকল্পনা সফল করা হয়।

লিটন হত্যা মামলায় পুলিশের এক তদন্ত কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চন্দনের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি লিটনের বাড়ির সামনে গাব গাছের নিচে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তিনি লিটন ও তার বাড়ির লোকজনের অবস্থান সম্পর্কে মোবাইল ফোনে কিলারদের তথ্য দেন। হত্যাকাণ্ডের পর চন্দন সেখান থেকে চলে যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চন্দন কুড়িগ্রামে ছিলেন। পরে সেখান থেকে ভারতে পালিয়ে যান। প্রযুক্তির সাহায্যে লিটন হত্যায় চন্দনের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।’

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামও এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডে চন্দনের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লিটন হত্যার পরিকল্পনায় সহায়তা ও মিশন বাস্তবায়নে কাজ করেছেন চন্দন। কাদের খাঁন ও চার কিলার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে একথা জানিয়েছেন। শিগগিরই লিটন হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে দেওয়া হবে। আশা করি, তার আগেই চন্দনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’

চন্দনের বিষয়ে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাবেদ বলেন, ‘চন্দন একসময় লিটনের আস্থাভাজন ছিলেন। কিন্তু চন্দনের নানা অপকর্মের কারণে তার সঙ্গে লিটনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ কারণে কাদের খাঁনের সঙ্গে যোগ দিয়ে লিটন হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন চন্দন।’  

প্রসঙ্গত, গত ৩১ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহবাজ (মাস্টারপাড়া) গ্রামে নিজ বাড়িতে গুলিতে নিহত হন এমপি লিটন। পরদিন ১ জানুয়ারি লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি লিটন হত্যার মূল হোতা সন্দেহে জাতীয় পার্টির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আবদুল কাদের খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এমএ/এএআর/