মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক চাদ মোহাম্মদ আব্দুল আল রাজি এ রায় দেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, রংপুর নগরীর খলিফাটারী মহল্লায় আব্দুল করিম ভোলার বাসায় ভাড়া থাকতো আসামি মারুফ হোসেন মানিক ও তার স্ত্রী রুনা আখতার বৃষ্টি। সেখানে ভাড়া থাকা অবস্থায় আর্থিক সংকটে পড়ায় বাড়িওয়ালার এক মাত্র ছেলে হিমেলকে অপহরণ করে লুকিয়ে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে মানিক।
২০১১ সালের ১১ নভেম্বর বিকালে শিশু হিমেল খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও হিমেলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তার বাবা কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার ৬ দিন পর হিমেলের লাশ বাড়ির কাছেই একটি বালুর মধ্যে থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
কিন্তু ঘটনার পর থেকে আসামি মানিক ও তার স্ত্রী বৃষ্টি পলাতক থাকায় পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নওগাঁ থেকে দুজনকে গ্রেফতার করে রংপুরে নিয়ে আসে। পরে আসামি মানিক ও তার স্ত্রী দুজনই আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি মানিককে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং তার স্ত্রীর বয়স ১৫ বছর হওয়ায় তাকে ৩ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়। তবে আসামি বৃষ্টি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছে। গ্রেফতার হওয়ার পর এ রায় কার্যকর করা হবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন।
বিচারক রায় ঘোষণার সময় বলেন, আসামি ৬ বছর ধরে কারাগারে আটক আছে। অপরাধ সংঘটিত করার সময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর ৫ মাস। এ মামলায় চাক্ষুস কোনও সাক্ষী নেই। সে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। যদিও সে বিচারের সময় আদালতে দাবি করেছে তাকে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে ইলেকট্রিক শক দিয়ে পুলিশ তাকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে। কিন্তু এর স্বপক্ষে কোনও জোরালো সাক্ষ্য হাজির করতে পারেনি কিংবা তার বক্তব্যের সমর্থনে কোনও কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। সে কারণে তার ওই বক্তব্য আদালতের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।
তারপরেও যদিও অর্থের লোভে একটা নিরাপরাধ শিশুকে হত্যা করেছে এবং ঘটনার সময় তার বয়স কম ছিল, সে কারণে আদালত তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে।
অন্যদিকে আসামি মানিকের স্ত্রী বৃষ্টি হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলেও লাশ লুকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনার সময় তার বয়স মাত্র ১৫ থাকায় তাকে কারাদণ্ড না দিয়ে ৩ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হলো।
সরকার পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি আব্দুস সাত্তার অ্যাডভোকেট জানান, তারা ন্যায় বিচার পেয়েছে। এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট।
অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী বসুনিয়া মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম অ্যাডভোকেট জানান, তারা ন্যায় বিচার পাননি। এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
/এআর/