সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করলেন প্রধান শিক্ষক

 নীলফামারী

নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেছেন দুড়াকুটি ময়দান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।সোমবার (৫ জুন)দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তাদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।পরে তারা প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবি করে উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে জানা যায়, ঘটনার সময় প্রধান শিক্ষক তার স্কুলের ২০১৭ সালের স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান এর প্রতিবেদন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু জাহের মো. সাইফুর রহমানের কাছে জমা দেন। প্রতিবেদনটি জমা নেওয়ার আগে তা যাচাই-বাছাই করার সময় ভুল বের হলে তিনি তা সংশোধন করে জমা দিতে বলেন। এতে প্রধান শিক্ষক চেয়ারে বসে থাকা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যেই লাথি দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেয়। এসময় অফিসের অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছুটে এলে ওই শিক্ষক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে চরম উত্তেজনা দেখ দেয়। 

ঘটনার শিকার উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন,‘আমি এর সঠিক বিচার চাই। ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে কয়েকদিন আগে এলাকাবাসী স্কুলটি ঘেরাও করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল।ওই ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত রিপোর্টটি প্রধান শিক্ষকের পক্ষে না যাওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এ কাজ করেছেন।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে কথা বললে,তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘ওই কর্মকর্তার সঙ্গে আমার শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান বলেন, ‘আমি ঘটনার সময় অফিসের বাইরে ছিলাম। কিন্তু পরে এসে ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনাটি তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান বলেন,‘ঘটনাটি তদন্ত করে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: ফরিদপুরে স্কুলছাত্র হত্যায় ৩ জনের যাবজ্জীবন