কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বিপদসীমার ওপর ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি

Flood-pic-11.07কযেকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা ও তিস্তা নদীসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ১২ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং ধরলার পানি ফেরিঘাট পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সদর উপজেলাসহ উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী ইউনিয়নগুলো বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের সবকটি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শুকনো খাবার ও পানীয় জলের সংকট দেখা যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বন্যাকবলিতরা। একই অবস্থা বিরাজ করছে বন্যা কবলিত অন্যান্য উপজেলার বানভাসিরা।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার বলেন, ‘সোমবার পর্যন্ত পাঁচ টন ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়া গেলেও এ পর্যন্ত ১৫০ পরিবারের মধ্যে দেড় টন ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে আমার গোটা ইউনিয়ন পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় বরাদ্দকৃত ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়, আরও প্রচুর পরিমাণে ত্রাণ বিতরণ প্রয়োজন।’
চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট, রমনা, চিলমারী ও অষ্টমীরচর ইউনিয়ন এবং রৌমারী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এবং রাজিবপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নেই পানি প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে।

চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হানিফা জানান, তার ইউনিয়নে ৮/১০ টি গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে প্রায় ছয় শতাধিক পরিবার। তিনি এখন পর্যন্ত ৩ টন ত্রাণ বরাদ্দ পেয়েছেন যা আজ থেকে ৩০০ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

রাজিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শফিউল আলম জানান, তার উপজেলার ৩/৪ টি ওয়ার্ড বাদে গোটা উপজেলার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই জনপ্রতিনিধি জানান, প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা ও ৯ টন ত্রাণ সহায়তা পাওয়া গেছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা তৎপর রয়েছি। বন্যাকবলিত সবকটি উপজেলায় আজ নতুন করে নগদ টাকাসহ ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুকনো খাবারও বিতরণ করা হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে, আমরা উপজেলা ভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করছি।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কুড়িগ্রামে সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। সার্বিক দিক দিয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।’

/এআর/